‘বলির পাঁঠা নয়’ — আরিয়ানকে ঘিরে ফের মুখ খুললেন সমীর ওয়াংখেড়ে

আরিয়ানকে ঘিরে ফের মুখ খুললেন সমীর ওয়াংখেড়ে! ২০২১ সালের বহুলচর্চিত মাদক-কাণ্ডে বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করেছিলেন এনসিবি-র প্রাক্তন আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ে। আরিয়ানের কাছ থেকে কোনও মাদক…

October 5, 2025
1 min read

আরিয়ানকে ঘিরে ফের মুখ খুললেন সমীর ওয়াংখেড়ে!

২০২১ সালের বহুলচর্চিত মাদক-কাণ্ডে বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করেছিলেন এনসিবি-র প্রাক্তন আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ে। আরিয়ানের কাছ থেকে কোনও মাদক উদ্ধার না হলেও, তাঁকে জেলে কাটাতে হয়েছিল প্রায় এক মাস। সেই সময় থেকেই সমীরের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রবল বিতর্ক। অনেকেই অভিযোগ তুলেছিলেন, আরিয়ানকে নাকি “বলির পাঁঠা” বানানো হয়েছিল। চার বছর পর সেই প্রসঙ্গেই ফের মুখ খুললেন ওয়াংখেড়ে।

সম্প্রতি আরিয়ান পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ “দ্য ব্যাড্‌স অফ বলিউড” মুক্তি পেয়েছে। সিরিজের একটি চরিত্রকে দেখে অনেকেই সমীর ওয়াংখেড়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন। অনেকের দাবি, চরিত্রটির মাধ্যমে সমীরকে খোঁচা দিয়েছেন আরিয়ান। এমনকি এই অভিযোগে শাহরুখ ও আরিয়ানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন ওয়াংখেড়ে। যদিও দিল্লি হাই কোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

এই ঘটনার পরই এক পডকাস্টে এসে ফের আরিয়ানকে নিয়ে মুখ খোলেন সমীর। তিনি বলেন, “শুধু মাদক পাওয়া গেল না মানেই কেউ নির্দোষ, এমনটা ভাবা ভুল। যদি কোনও জায়গায় মাদক পাওয়া যায়, তবে সেটা কোথায় তৈরি হল, কারা সরবরাহ করল, কারা বিক্রি করল — এই গোটা চক্রটা ধরতেই তদন্ত হয়। তদন্ত মানে শুধু হাতে ধরা বস্তু নয়, গোটা নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করা।”

ওয়াংখেড়ে আরও যোগ করেন, “আমরা আইন মেনে তদন্ত করেছিলাম। কাউকেই বলির পাঁঠা বানানো হয়নি।” তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আরিয়ানকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত একেবারে হঠাৎ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবেই তা করা হয়েছিল।

আরিয়ান অবশ্য নিজের পথে এগিয়ে গিয়েছেন। নিজের ওয়েব সিরিজের প্রচারে তিনি জানিয়েছিলেন, জীবনে যখনই কঠিন সময় আসে, তখন তিনি একটি সংলাপ মনে করার চেষ্টা করেন— “যে হেরে যায় আর যে হার মেনে নেয়, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।” তাঁর মতে, এই সংলাপই তাঁকে সব সময় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের অক্টোবরে মুম্বই উপকূলে একটি প্রমোদতরীতে এনসিবি অভিযান চালিয়ে আরিয়ানসহ কয়েক জনকে আটক করে। আরিয়ানের কাছ থেকে কোনও মাদক উদ্ধার না হলেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক হয় এবং সমীর ওয়াংখেড়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে বছর চারেক পরও ওয়াংখেড়ে নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং আরিয়ানকে কোনওভাবেই বলির পাঁঠা বানানো হয়নি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্ত শুধুই ‘কে মাদক রেখেছিল’ পর্যন্ত সীমিত নয়, বরং কে সরবরাহ করে, কারা যুক্ত সেই সম্পূর্ণ চক্র ধরাই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, আরিয়ান খান এবং সমীর ওয়াংখেড়ের লড়াই এখানেই শেষ নয়। একদিকে ওয়াংখেড়ে নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে আরিয়ান নিজের অভিজ্ঞতাকে সৃজনশীলতার মাধ্যমে তুলে ধরছেন। সময়ই বলবে, এই দুই পক্ষের টানাপোড়েন আর কত দূর গড়ায়।

কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *