মহেশ ভট্টের জীবনের সেই ভয়াবহ অধ্যায়!
বলিউডের নামী পরিচালক মহেশ ভট্টের জীবনে এমন এক অভিজ্ঞতা আছে, যা শুনলে অবাক হবেন অনেকেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, কর্মজীবনে সাফল্য পাওয়ার আশায় এক সময় তান্ত্রিকের কথায় তিনি নাকি এক বিনিয়োগকারীকে মানুষের মাংস খাইয়েছিলেন!
তখন বয়স কুড়ির কোঠায়। জীবনের শুরুতে বন্ধুর সঙ্গে কাজের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন মহেশ। সেই বন্ধু অরুণ দেসাই একদিন তাঁকে এক বিনিয়োগকারীর খোঁজ দেন—বিহারের গয়ার এক প্রভাবশালী জমিদার। কিন্তু বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা করার আগে মহেশকে বারাণসী যেতে বলেন অরুণ। সেখানে তাঁদের দেখা হয় এক তরুণ সন্ন্যাসীর সঙ্গে, যিনি আসলে ছিলেন এক তান্ত্রিক।
মহেশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখি অসংখ্য গরিব মানুষ তাঁর আশীর্বাদ পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে। তিনি হাতে মদের বোতল নিয়ে নাচছিলেন।” মহেশ তখন এসব রীতি বিশ্বাস করতেন না। সেটা বুঝে ফেলেন তান্ত্রিক। পরের দিন আবার ডেকে পাঠান মহেশ ও অরুণকে এবং হাতে তুলে দেন একটি ছোট পুরিয়া।
“তান্ত্রিক বললেন, ‘এর মধ্যে মানুষের মাংস আছে। শ্মশানের ঘাট থেকে আনা হয়েছে। এটা তোমাদের বিনিয়োগকারীকে খাইয়ে দিও। তাহলে তিনি টাকা দিতে বাধ্য হবেন।’” — এমনই ভয়াবহ কথা শুনেছিলেন মহেশ।
প্রথমে অবিশ্বাস হলেও, কর্মজীবনে সাফল্যের আশায় সেই কথা মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর তাঁরা যান গয়া শহরে। সেখানে সেই বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁদের। মহেশ বলেন, “তিনি জমিদার ছিলেন। মশারির ওপারে বসতেন, চারপাশে বন্দুকধারী পাহারাদার। কীভাবে ওঁকে মানুষের মাংস খাওয়াব তা বুঝতে পারছিলাম না।”
শেষমেশ উপায় বের করেন তাঁরা—একটি পানের মধ্যে মাংসের টুকরো ভরে দেওয়া হবে। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। জমিদার সেই পান চিবোতে থাকেন, আর মহেশ ও অরুণ তখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, তাঁদের ভাগ্য বদলাতে চলেছে।
কিন্তু বাস্তব ছিল একেবারেই অন্য। কয়েক মাস কেটে যায়, কিন্তু জমিদার আর বিনিয়োগে রাজি হননি। সব চেষ্টা বিফলে যায়। তান্ত্রিকের দেওয়া তথাকথিত “সাফল্যের মন্ত্র” যে নিছক অন্ধবিশ্বাস আর অযৌক্তিক কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়, তা বুঝে যান মহেশ।
এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও বিস্মিত পরিচালক। কুড়ি বছরের যুবক বয়সে সাফল্যের লোভে কতটা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, তা স্বীকার করেছেন তিনি নিজেই। জীবনের সেই অধ্যায় আজও তাঁকে শিক্ষা দেয়—সাফল্যের কোনও শর্টকাট নেই, পরিশ্রম আর ধৈর্য ছাড়া কোনও জাদুমন্ত্র কিছুই করতে পারে না।
মহেশ ভট্টের এই স্বীকারোক্তি শোনার পর নেটিজেনরাও চমকে গিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, “বলিউডের একজন জনপ্রিয় পরিচালক এমন কাজ করতে পারেন, ভাবাই যায় না!” আবার অনেকে এটিকে যুবক বয়সের ভুল বলে মেনে নিয়েছেন।
যাই হোক, এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়, মানুষ কখনও কখনও সাফল্যের খোঁজে অন্ধবিশ্বাসের ফাঁদে কীভাবে পা দিয়ে ফেলে। আর মহেশ ভট্টের জীবন থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল—সাফল্য কোনও তান্ত্রিকের পুরিয়ায় লুকিয়ে নেই, তা লুকিয়ে থাকে নিজের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা