‘টাইম বোমা’ হয়ে উঠছে ভারতের বুড়ো বাঁধগুলি, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও প্রাণহানির আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে

‘টাইম বোমা’ হয়ে উঠছে ভারতের বুড়ো বাঁধগুলি! প্রতি মুহূর্তে সময় ফুরিয়ে আসছে, আর ভারতের বহু পুরোনো বাঁধ নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দেশের শতাব্দীপ্রাচীন…

October 3, 2025
0 min read

‘টাইম বোমা’ হয়ে উঠছে ভারতের বুড়ো বাঁধগুলি!

প্রতি মুহূর্তে সময় ফুরিয়ে আসছে, আর ভারতের বহু পুরোনো বাঁধ নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দেশের শতাব্দীপ্রাচীন বাঁধগুলির অনেকগুলি এখন যেন টিকটিক করছে এক একটি ‘টাইম বোমা’। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে অঘটন, ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ভারতে বড় বাঁধের সংখ্যা ছ’হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১০৬৫টি বাঁধের বয়স ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে এবং ২২৪টি বাঁধ শতাব্দীর গণ্ডি পেরিয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ৪২০০টি বাঁধের বয়সই ৫০ বছরের বেশি হয়ে যাবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কাও। অনেক বাঁধের প্রাথমিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিছু বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

ভারতের সবচেয়ে পুরোনো বাঁধ তামিলনাড়ুর কাল্লানাই, যা তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে। এরপর এসেছে কেরলের মুল্লাপেরিয়ার (১৮৯৫), নিজাম সাগর (১৯৩১), এবং কাবেরী নদীর উপর মেত্তুর বাঁধ (১৯৩৪)। স্বাধীনতার পর দেশজুড়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছিল ভাখড়া নাঙ্গল, হিরাকুদ, তুঙ্গভদ্রা এবং কোয়েনার মতো বিশাল বাঁধগুলি। ১৯৫১ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ৪১৮টি বড় বাঁধ, যা দেশের সবুজ বিপ্লব এবং কৃষিক্ষেত্রে জল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

কিন্তু এখন সেই বাঁধগুলির অনেকগুলিই বার্ধক্যের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে তিস্তায় ভয়াবহ বন্যার সময় বাঁধগুলির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাটল ধরা, জল চুঁইয়ে পড়া এবং পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া — এমন সমস্যাগুলি সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আশপাশে বসবাস করা হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে। কোনও বাঁধ ভেঙে পড়লে প্রাণহানির পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিও মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

বিপদের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই তাপমাত্রা কমার কথা থাকলেও ভারতে বর্ষার মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান বাড়ছে, যা বাঁধের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় এসেছে এই পুরোনো বাঁধগুলিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। এগুলিকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতও সহ্য করতে পারে। এই লক্ষ্যে ২০২১ সালে কার্যকর হয়েছে ‘ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট’, যার আওতায় তৈরি হয়েছে ‘ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি অথরিটি’, ‘ন্যাশনাল কমিটি অন ড্যাম সেফটি’ এবং ‘স্টেট ড্যাম সেফটি অর্গানাইজ়েশন’। এই সংস্থাগুলির দায়িত্ব বাঁধগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দুর্যোগ প্রতিরোধের নীতি নির্ধারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ চিহ্নিত করে মেরামতির ব্যবস্থা নেওয়া।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *