লাল শাড়ি, সোনার গয়নায় সেজে মা দুর্গার বরণে শুভশ্রী!
দশমীর দুপুর মানেই বাঙালির হৃদয়ে মিশ্র অনুভূতির মুহূর্ত—একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে মায়ের বিদায়ের বেদনা। ঠিক এই আবহেই মাকে বরণ করতে হাজির হলেন টলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। পুজোর চার দিন যেন চোখের পলকেই কেটে গেল, আর এখন সময় মাকে বিদায় জানানোর।
পরনে লাল টকটকে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, গলায় ও হাতে ভারী সোনার গয়না, পায়ে আলতা আর সিঁথিতে গাঢ় সিঁদুর—এই ঐতিহ্যবাহী সাজেই দশমীর দিনে মায়ের বরণে উপস্থিত হলেন শুভশ্রী। প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাঁর এই সাজ নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও তিনি এই বিশেষ দিনটি কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি। পাশে ছিলেন স্বামী, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
গাড়ি থেকে নামতেই অনুরাগীদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন একগাল উজ্জ্বল হাসি। চার দিন ধরে উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা থাকার পরেও তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল মায়ের বিদায়ের বেদনা। বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতেও তিনি যেন তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে হেসে বললেন, “এখনও বিজয়া নয়। যত ক্ষণ না মাকে জলে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে, তত ক্ষণ বিজয়া বলব কেন?”
মায়ের কাছে কী প্রার্থনা করবেন, সে কথা স্পষ্ট করে না বললেও শুভশ্রীর চোখের ভাষায় বোঝা যাচ্ছিল, পরিবারের সুখ-শান্তি আর সন্তানের সুস্থতা নিশ্চয়ই রয়েছে তাঁর প্রার্থনার তালিকায়।
পুজোর আগের সপ্তাহটা ছিল তাঁর জন্য একেবারে দম ফেলার অবসরহীন। বিজ্ঞাপনের শুটিং থেকে শুরু করে শহরের বাইরে দুর্গাপুজো উদ্বোধন—সব জায়গাতেই হাজির ছিলেন তিনি। শিলিগুড়ি থেকে মধ্যমগ্রাম, উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রায় সর্বত্রই পুজোর অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে শুভশ্রীকে।
পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারের প্রতিও তাঁর সমান মনোযোগ। ছেলে ইউভান আর মেয়ে ইয়ালিনিকে সময় দেওয়ায় তিনি কখনওই কৃপণ নন। পুজোর দিনগুলোতেও দুই সন্তানকে নিয়ে কলকাতার নামী প্যান্ডেলগুলো ঘুরেছেন তাঁরা। প্যান্ডেল হপিংয়ের সেই মুহূর্তগুলোকে জমিয়ে উপভোগ করেছেন শুভশ্রী ও রাজ।
শুধু বাইরে ঘোরা নয়, বাড়িতেও পুজোর আনন্দে সরগরম ছিল তাঁদের সংসার। অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন টলিপাড়ার পরিচিত মুখরা—আবীর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী, অভিনেত্রী মানালি দে, পরিচালক আরিন্দম শীল-সহ আরও অনেকে। আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর খাওয়াদাওয়ায় জমে উঠেছিল শুভশ্রী-রাজের বাড়ি।
এই সমস্ত কিছুর মধ্যেও দশমীর দিন শুভশ্রীর মন যেন একটু ভারী। কারণ, মা আসেন বছর ঘুরে, কিন্তু চলে যান কয়েক দিনের মধ্যেই। সেই বিদায়ের মুহূর্তে লাল শাড়ি, সোনার গয়না আর সিঁদুরে সেজে তিনি জানিয়ে দিলেন—মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই শুরু হবে নতুন দিন, নতুন অধ্যায়।
মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে নারাজ শুভশ্রী। তাঁর এই বিশ্বাসই যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, যতই তারকা হন না কেন, পুজোর এই আবেগ ও ভক্তিতে তিনি আজও সেই চেনা বাঙালি মেয়েটি।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা