চহলের থেকে ৬০ কোটি দাবি করেছেন, এই গুজবের আসল সত্যিটা কী?
ছ’মাসের প্রেমের পর বিয়ে, আর কয়েক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদ। ভারতীয় ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চহল এবং নৃত্যশিল্পী-প্রশিক্ষক ধনশ্রী বর্মার সম্পর্ক যেন এক ঝড়ের মতো এসেছিল এবং মিলিয়ে গিয়েছিল। এ বছরের শুরুর দিকে আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে আলাদা হয়ে যান তাঁরা। কিন্তু বিচ্ছেদের পর থেকে ধনশ্রীর জীবনে শান্তি ফেরেনি। একের পর এক কটূ মন্তব্য, তির্যক কটাক্ষ এবং গুজবে বারবার বিদ্ধ হয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় ছিল—ধনশ্রী নাকি বিচ্ছেদের সময় চহলের থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকার খোরপোশ দাবি করেছেন। এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে ‘অর্থলোভী’ আখ্যা দিতে শুরু করেন অনেকে। কিন্তু এতদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন ধনশ্রী নিজেই, আর প্রকাশ্যে আনলেন এই বিতর্কের সত্যিটা।
সম্প্রতি ‘রাইজ় অ্যান্ড ফল’ নামের এক রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধনশ্রী এই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। গুজবকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন,
“যে ভাবে আমার নামে বলা হচ্ছে যে আমি খোরপোশ নিয়েছি, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমার মা-বাবা ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন, উত্তর দিতে হয় শুধুই তাঁদের যাঁদের আমার জীবনে গুরুত্ব আছে। খারাপ লাগে এটা ভেবে যে ও (চহল) কী ভাবে আমার নামে এমন কথা বলছে! যদিও আমি সব সময় ওর সম্মান বজায় রেখেছি।”
ধনশ্রীর কথায় আরও স্পষ্ট হয় তাঁর অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণা। তিনি বলেন, “আমার জীবনে যা অভিজ্ঞতা হল, তার পর আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারব বলে মনে হয় না।”
এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বিচ্ছেদ তাঁর মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। অন্যদিকে, চহলের সঙ্গে বিচ্ছেদের কিছুদিন পরই শোনা যায় যে তিনি বেতার সঞ্চালিকা মহওয়াশের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। যদিও ধনশ্রীর নতুন কোনও সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।
শুধু ধনশ্রীই নন, এই গুজব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবারও। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধনশ্রী চহলের কাছ থেকে কোনও খোরপোশ নেননি এবং এমন কোনও দাবি বা প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি।
ধনশ্রী এবং চহলের প্রেমকাহিনি শুরু হয়েছিল হঠাৎ করেই। মাত্র ছ’মাসের পরিচয়ের পর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ক্রিকেট জগত এবং বিনোদন দুনিয়ার এই যুগলকে ঘিরে তখন ছিল ভক্তদের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। একসময় একসঙ্গে সুখের ছবি শেয়ার করা সেই দুই মানুষ শেষ পর্যন্ত আলাদা হয়ে যান।
বিচ্ছেদের পর ধনশ্রীর জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে কটূ মন্তব্য এবং নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সমস্ত গুজবের জবাব তিনি মর্যাদা ও সংযমের সঙ্গে দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত খোরপোশের ৬০ কোটির গুজবটি ভিত্তিহীন বলেই স্পষ্ট করলেন ধনশ্রী। তাঁর কথায়, সত্যিটা একটাই—তিনি কোনও আর্থিক দাবি জানাননি এবং চহলের প্রতি তাঁর সম্মান আজও অটুট।
এই ঘটনার পর হয়তো ধীরে ধীরে থেমে যাবে গুজবের স্রোত। তবে ধনশ্রীর কথায় যে ক্ষতের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে সম্পর্ক ভাঙা শুধু দুটি মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়া নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য অনুভূতি, কষ্ট আর অপবাদ।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা