জেলায় জেলায় তথ্য তলব
রাজ্যে প্রায় দেড় লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাদের মধ্যে যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন, তাঁদের সকলকেই ফের নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে এবং পদোন্নতির জন্য টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
এই রায়ের পরই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তৎপর হয়েছে। সোমবার পর্ষদ জেলায় জেলায় কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের তথ্য তলব করেছে। পর্ষদ জানিয়েছে, সব জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (ডিপিএসসি)-এর চেয়ারম্যানদের কাছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষকদের তথ্য জমা দিতে হবে। নির্দেশিকায় বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে—কতজন শিক্ষককে টেট দিতে হবে, তাদের মধ্যে কে কবে অবসর নেবেন, কখন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য।
শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের রায়ে বলা হয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে সকল কর্মরত শিক্ষককে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। যাঁরা তা পূরণ করতে পারবেন না, তাঁরা বা তো চাকরি ছাড়বেন, বা অবসরের জন্য আবেদন করবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রয়েছে—যাঁরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবসর নেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ না-হলেও চলবে।
এই নির্দেশিকায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষার অধিকার আইন এবং এনসিটিই রুলে কোথাও এমন শর্ত নেই। তবু সুপ্রিম কোর্ট এমন রায় দিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তক্ষেপের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আজ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কিছুটা পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এখনও চুপ। আশা করি, তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’’
এবারের রায়ে বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য নিয়োগ ও পদোন্নতির নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। এটি শুধুমাত্র নতুন নিয়োগকেই নয়, বরং বর্তমান কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও প্রভাবিত করছে। জেলাগুলিতে তথ্য তলব করার মাধ্যমে পর্ষদ চাইছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও উঠতে পারে। অনেকে বলছেন, যাঁদের অনেক বছর ধরে শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের জন্য টেটের পরীক্ষায় বসা কঠিন। তবে প্রশাসনের দৃষ্টিতে এটি শিক্ষার মান এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
পরবর্তী কয়েক মাসে জেলাগুলির রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই স্পষ্ট হবে কতজন শিক্ষক টেট দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মান্য করতে না পারলে শিক্ষকদের চাকরি এবং পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, তা নজর রাখার বিষয়।
শেষ পর্যন্ত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পেশাগত যোগ্যতা এবং শিক্ষার মান উন্নত করার উদ্দেশ্যই এর মূল লক্ষ্য।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা