কী কারণে নির্ধারণ করা হয়েছিল মধ্যরাতের সময়?
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক (সিডিএস) অনিল চৌহান সম্প্রতি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন ৬ মে অনুষ্ঠিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে করা হয়েছিল। এই অভিযান পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হয়েছিল। রাতের এই সময় কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের বৈসরন উপত্যকায় ঘুরতে গিয়ে কয়েকজন পর্যটক জঙ্গিহানায় নিহত হন। এই ঘটনায় প্রতিবাদ এবং প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা হয়, যার মধ্যে ছিল মুজফ্ফরাবাদ, কোটলি, বহওয়ালপুর, রাওয়ালকোট, চক্সওয়ারি, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝিলম এবং চকওয়াল। রাত ১টা বেজে পাঁচ মিনিটে অভিযান শুরু হয়ে ২৫ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়। লশকর-এ-ত্যায়বা ও জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অস্ত্রাগার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
অনিল চৌহান জানান, রাতের এই সময় বেছে নেওয়ার দুটি প্রধান কারণ ছিল। প্রথমত, “রাতের অন্ধকারে ছবি তোলা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতার উপর আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।” অর্থাৎ, রাতের অন্ধকারে স্যাটেলাইট চিত্র ও রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চৌহান বলেন, “ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অভিযান চালানো সম্ভব হতো। কিন্তু সেই সময় হলো নমাজের সময়। অনেক সাধারণ মানুষ ওই সময়ে জড়ো হন। তাই আমরা নিরাপত্তার কারণে মধ্যরাতের সময় বেছে নিয়েছি।” অর্থাৎ সকালে অভিযান করলে বেসামরিক লোকের হতাহতের সম্ভাবনা বেশি থাকত।
ভারতীয় সেনার সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সফলতার পেছনে মূল ভূমিকা নিয়েছে উন্নত নির্ভুল অস্ত্রশস্ত্র এবং রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একযোগে হামলা চালানো হয়, যা সীমিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানে।
সিডিএস অনিল চৌহানের কথায়, এই অভিযান শুধুমাত্র প্রতিশোধমূলক নয়, বরং জঙ্গি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অস্ত্রাগারের ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই করা হয়েছিল। ফলে রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযানের সময় নির্ধারণ করা ছিল কৌশলগত, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সমন্বয়।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞও মনে করেন, মধ্যরাতের এই অভিযান ভারতীয় সেনার দক্ষতা ও পরিকল্পনার প্রমাণ। অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত, বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার—এসব মিলিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সফল হয়েছে বলে দাবি সেনাবাহিনীর।
এই ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট, রাতের এই সময়ে অভিযান করা ছিল প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সমন্বয় করে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ