ভূপেন হাজারিকার গানের ধারা আজও বেঁচে আছে – শিলাজিৎ

আজও বেঁচে আছে – শিলাজিৎ ভূপেন হাজারিকা—একটা নাম, একটা কণ্ঠস্বর, একটা যুগের প্রতিচ্ছবি। ২০২৫ সালে শুরু হল তাঁর জন্মশতবর্ষ। শিল্পী হিসেবে তিনি ছিলেন সুরকার, কবি, গায়ক, আবার সমাজকর্মীর মতোই সংগ্রামী…

September 8, 2025
1 min read

আজও বেঁচে আছে – শিলাজিৎ

ভূপেন হাজারিকা—একটা নাম, একটা কণ্ঠস্বর, একটা যুগের প্রতিচ্ছবি। ২০২৫ সালে শুরু হল তাঁর জন্মশতবর্ষ। শিল্পী হিসেবে তিনি ছিলেন সুরকার, কবি, গায়ক, আবার সমাজকর্মীর মতোই সংগ্রামী এক মানুষ। তাঁর গান ভরিয়ে তুলেছিল উত্তর-পূর্ব থেকে শুরু করে গোটা ভারতবর্ষের অন্তর। আজ, জন্মের শতবর্ষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ওঠে—ভূপেন হাজারিকা কতটা প্রাসঙ্গিক? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার শিলাজিৎ মজুমদার।

শিলাজিতের মতে, ভূপেন হাজারিকার গান কোনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আটকে নেই। তিনি বলেন, “যে কোনও সাঙ্গীতিক ধারা সময়ের অভিব্যক্তি। সেটা আমাদের কানে বাজে, মনের মধ্যে থেকে যায়। আমরা চাইলেও ভুলতে পারি না। ছোট ছোট ভাললাগা, যা আমাদের ছুঁয়ে যায়, তা অন্তরে লালন হয়। ভূপেনবাবুর গানের ধারা তাই আজও কোথাও না কোথাও আমরা ধরে রেখেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, শতবর্ষ পেরিয়েও যদি মানুষ তাঁর গান আলোচনা করে, তবে সেটাই প্রমাণ করে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর। শুধু ভারতে নয়, বিদেশেও তাঁর খ্যাতি ছড়িয়েছিল। তাই আজও তিনি সমান প্রাসঙ্গিক।

শিলাজিত নিজের স্মৃতিচারণায় বলেন, ছোটবেলায় ভূপেন হাজারিকার গান শেখেননি, কিন্তু অজান্তেই গুনগুন করেছেন। “সেই বয়সে তো গানের গভীরতা বুঝিনি, বিশ্লেষণ করিনি। কিন্তু গানের সুর, কথার জোর, কম্পোজ়িশন আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। আজও সেই গান গুনগুন করি।”

প্রতিবাদের গান নিয়েও মত দেন তিনি। শিলাজিত মনে করেন, ভূপেনবাবুর গান শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর গানে সমাজের দীর্ঘদিন ধরে শোষিত মানুষের কাহিনি যেন একেকটা ব্যালাডের মতো উঠে এসেছে। “তৎকালীন সামাজিক পরিস্থিতি ওঁর সৃষ্টিতে অসাধারণ ভাবে ধরা পড়েছে। অবশ্যই প্রতিবাদের সত্তা ছিল, যেমন ‘দোলা’ বা ‘ও গঙ্গা বইছ কেন?’ কিন্তু আমার মনে হয়, এর থেকেও বড় ছিল সাধারণ মানুষের ব্যথা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।”

তবে শিলাজিত এটাও স্পষ্ট করেন যে, ছোট বয়সে তাঁর কাছে গান মানে ছিল কেবল আনন্দ। তখন প্রতিবাদ বা সামাজিক বার্তা বোঝার ক্ষমতা ছিল না। তবুও গানগুলি হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে। “গান তো বিনোদনও দেয়। ভূপেনবাবুর গান সেই বিনোদনমূলক দিক থেকেও অমোঘ ছিল। তাঁর সৃষ্টিতে সুর, কথা, কম্পোজ়িশনের এমন শক্তি ছিল যে শ্রোতা তৎক্ষণাৎ টান অনুভব করত।”

ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষে তাই শিলাজিতের বক্তব্য একটাই—তাঁর গান শুধু ইতিহাস নয়, এখনও সমকালীন। কারণ, গান শুধু প্রতিবাদ বা সামাজিক বার্তা বহন করে না, গান আনন্দও দেয়, হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। আর ভূপেনবাবুর সঙ্গীত তার প্রতিটি স্তরেই আজও অক্ষত, প্রাসঙ্গিক এবং চিরকালীন।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *