জ়েলেনস্কির কড়া বার্তা: ‘শাস্তিমূলক শুল্কই সঠিক পথ’, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নীরব সমর্থন

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নীরব সমর্থন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের অধিকাংশ পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক আরোপ মূলত নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে…

September 8, 2025
1 min read

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নীরব সমর্থন

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের অধিকাংশ পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক আরোপ মূলত নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপ। ফলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্কের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৫০ শতাংশে। আর এই পদক্ষেপকে সরাসরি সমর্থন করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি।

যদিও ভারত বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম তিনি মুখে আনেননি, তাঁর বক্তব্য যে নয়াদিল্লিকেই উদ্দেশ করে, তা স্পষ্ট। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে মোদী, পুতিন ও শি জিনপিঙের বৈঠক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল, মোদীর উপস্থিতি কি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ করে দিল? উত্তরে জ়েলেনস্কি বলেন, “যে সব দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় চলছে, তাদের উপরে শুল্ক চাপানো একেবারেই সঠিক পদক্ষেপ।”

এই মন্তব্য কার্যত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন হিসেবেই ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটাই প্রথমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এতটা সরাসরি ভারতের অবস্থান নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন বরাবরই ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানকে খোলাখুলি সমালোচনা করেনি। কিন্তু এবার তা ভাঙল বলেই মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মতে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ভারতসহ কয়েকটি দেশ মস্কোকে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে, সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে। তাই আমেরিকা মনে করছে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া মানে কার্যত যুদ্ধের তহবিল জোগানো। সেই কারণেই ভারতের মতো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে নয়াদিল্লি এই অবস্থানকে মানতে নারাজ। ভারতের যুক্তি, নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তারা যে তেল আমদানি করছে, তা একেবারেই অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে। রাশিয়া থেকে তেল কেনা ভারত একে ‘অযৌক্তিক সমালোচনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠক এবং একই গাড়িতে চড়ে বেরোনোর ছবি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ঘনিষ্ঠতা।

এই আবহেই জ়েলেনস্কির মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে যখন ভারত অসন্তুষ্ট, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে তা সমর্থন করলেন। এতে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উপর চাপ আরও বাড়বে।

তবে এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটন—কোনও পক্ষই জ়েলেনস্কির বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। আমেরিকার পর ইউক্রেনও যখন ভারতের অবস্থানের বিরোধিতা করছে, তখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়াদিল্লির ভারসাম্য রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এক কথায়, জ্বালানি নিরাপত্তা বনাম কূটনৈতিক চাপের এই টানাপোড়েনেই দাঁড়িয়ে আছে ভারত। আর সেই চাপকে আরও উসকে দিল ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য।

C

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *