ঘটকালির অ্যাপকে আড়াল করে মাদক ব্যবসা, হায়দরাবাদে গ্রেফতার দুই পাচারকারী

হায়দরাবাদে গ্রেফতার দুই পাচারকারী তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক ভয়ঙ্কর মাদকচক্র। চক্রটি এতটাই চতুর যে, তাদের ব্যবসার আড়াল ছিল ঘটকালির (ডেটিং) অ্যাপ! পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে দু’জন পাচারকারী—এম…

September 5, 2025
0 min read

হায়দরাবাদে গ্রেফতার দুই পাচারকারী

তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক ভয়ঙ্কর মাদকচক্র। চক্রটি এতটাই চতুর যে, তাদের ব্যবসার আড়াল ছিল ঘটকালির (ডেটিং) অ্যাপ! পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে দু’জন পাচারকারী—এম রমাকান্ত ওরফে কিরণ এবং মুদাবত প্রসাদ। এই দু’জন শুধু মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং চক্র পরিচালনার জন্য অভিনব কৌশলও ব্যবহার করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাহক টানার জন্য প্রথমে তারা অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। যেসব মানুষ এই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন, তাদেরই নিশানা বানাত ধৃতেরা। যোগাযোগ গড়ে ওঠার পর মাদকের ধরন, পরিমাণ ও দাম ঠিক করতেন। সবকিছু চূড়ান্ত হলে, গ্রাহকের কাছে সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও তারাই করতেন।

এখানেই শেষ নয়। ধৃতেরা গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোডনাম ব্যবহার করতেন। পুলিশের হাতে এসেছে সেই দুই নাম—‘রকেট’ এবং ‘পিজন’। এই কোডের আড়ালেই চলত মাদকের লেনদেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে এক নাইজেরীয় পাচারকারীর কাছ থেকে নিয়মিত মাদক কিনতেন রমাকান্ত ও প্রসাদ। পরে সেই মাদক প্রতি গ্রাম প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন।

অভিজ্ঞ পাচারকারী হওয়ায় পুলিশের কাছে এরা অপরিচিত ছিল না। এর আগেও, গত বছরের জুলাই মাসে একই অপরাধে ধরা পড়েছিল এই দুই অভিযুক্ত। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়েই আবার আগের মতো চক্র গড়ে তুলেছিল তারা। পুলিশ জানিয়েছে, এবার ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ গ্রাম এমডিএমএ, ১০টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই মাদকচক্রের গ্রাহক তালিকায় রয়েছেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ। চিকিৎসক থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী, এমনকি যৌনকর্মীরাও মাদকের ক্রেতা তালিকায় ছিলেন। এত বড় একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে ধৃতদের সাহায্য করেছে আরও কয়েকজন, এমনটাই সন্দেহ পুলিশের। তাই মূলচক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “ধৃতেরা শুধু মাদক সরবরাহ করত না, পুরো নেটওয়ার্ককেই ডিজিটাল মাধ্যমে চালাত। ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহক টানা এবং কোড নামের আড়ালে লেনদেন—সব মিলিয়ে এরা একেবারেই নতুন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করছিল। আমরা এখন খতিয়ে দেখছি, এই নেটওয়ার্ক কতটা বড় এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত।”

এই ঘটনার পর শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। মাদকবিরোধী শাখার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করে চক্র যতই গোপনীয়ভাবে কাজ করুক, তাদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ এখন বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

সব মিলিয়ে, ঘটকালির অ্যাপকে আড়াল করে মাদক পাচারের এই চক্র গোটা সমাজকেই নতুনভাবে চমকে দিয়েছে। পুলিশের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই চক্রের মূল মাথাদের গ্রেফতার করে নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হবে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *