চিন সফর শেষে ঝুলি ভরে ফিরলেন শাহবাজ় শরিফ, উদ্বেগে নয়াদিল্লি
ছ’দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলন দিয়ে সফরের সূচনা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি পরিণত হল এক বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের যাত্রায়। সফর চলাকালীন একের পর এক বৈঠক, চুক্তি এবং বাণিজ্যিক সমঝোতার মাধ্যমে পাকিস্তান-চিন সম্পর্ক আরও গভীর হলো। অন্যদিকে, বিষয়টি নজরে রাখছে নয়াদিল্লিও।
মোদী বনাম শাহবাজ়: সফরের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য
এসসিও সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর সফর ছিল মাত্র দু’দিনের। বিপরীতে, শাহবাজ় শরিফ চিনে ছ’দিন কাটালেন। সেই সময় তিনি চিনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াঙ, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পাশাপাশি শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন তিনি। সফর শেষে তিনি দাবি করেন, বৈঠকগুলি ছিল ‘‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’’।
২১টি চুক্তি ও সিপিইসি-র নতুন অধ্যায়
পাকিস্তান ও চিনের ঘনিষ্ঠতা নতুন নয়। তবে এবারের সফরে সেটি আরও দৃঢ় হল। শাহবাজ়ের সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ২১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আনুমানিক ৭৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বহুল আলোচিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক সূচনা।
শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও নানা চুক্তি হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের মতে, শাহবাজ় শরিফ চিনা বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি করে পাকিস্তানে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান ও চিন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে। তাদের প্রতিশ্রুতি, এই সহযোগিতা কেবল সীমান্তরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তায়ও ভূমিকা রাখবে।
ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
তবে এই সময় ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্কও অন্য মাত্রা পাচ্ছে। সম্প্রতি শুল্কযুদ্ধের আবহে বেজিং নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে উদ্যোগী হয়েছে। মোদী-শি বৈঠক থেকেও দুই দেশের সহযোগিতার বার্তা মিলেছে। তবুও পাকিস্তান-চিনের এই গভীরতর বন্ধুত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
মাত্র কয়েক মাস আগেই কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল। এর পর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। টানা চার দিনের সংঘাতের শেষে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হলেও, সেই সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল চিন। শুধু কূটনৈতিক নয়, অস্ত্র সরবরাহেও সহায়তা করেছিল তারা।
অন্যদিকে, আমেরিকা ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পরে চিন বিকল্প বাণিজ্যসঙ্গী হিসেবে ভারতের দিকে হাত বাড়িয়েছে। ফলে, একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে জোরদার ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতা— এই দ্বৈত সমীকরণই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
শেষকথা
শাহবাজ় শরিফের চিন সফর নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতিকে টেনে তোলার পাশাপাশি এই সফর নয়াদিল্লির কূটনৈতিক কৌশলকেও আরও সচল করবে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ