‘প্রোপাগান্ডা নয়, সত্যের গল্প’—‘তেহরান’ নিয়ে কিউ-এর স্পষ্ট বক্তব্য

‘তেহরান’ নিয়ে কিউ-এর স্পষ্ট বক্তব্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া জন আব্রাহাম অভিনীত ছবি ‘তেহরান’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। এই ছবিতে দেখা গিয়েছে পরিচালক ও অভিনেতা কৌশিক মুখোপাধ্যায় ওরফে কিউ-কে এক…

September 3, 2025
1 min read

‘তেহরান’ নিয়ে কিউ-এর স্পষ্ট বক্তব্য

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া জন আব্রাহাম অভিনীত ছবি ‘তেহরান’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। এই ছবিতে দেখা গিয়েছে পরিচালক ও অভিনেতা কৌশিক মুখোপাধ্যায় ওরফে কিউ-কে এক ভিন্ন চরিত্রে—ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র’)–এর এক আধিকারিকের ভূমিকায়। কিউ জানালেন, বাস্তবে তাঁর যে চিত্রটি মানুষের কাছে পরিচিত, এই চরিত্র তার সম্পূর্ণ উল্টো।

“এটা মোটেও সাধারণ দেশাত্মবোধক ছবি নয়,” বললেন কিউ। “নির্মাতারা চেয়েছিলেন ভিন্ন স্বাদের একটি ছবি বানাতে, যেখানে ভিন্ন ধরনের অভিনেতাদের দেখা যাবে। আমি তো নিজেকে অভিনেতা মনে করি না, অডিশনও দিই না। যারা আমার কাজ পছন্দ করে, তারাই আমাকে ডাকে। তবে অভিনয় করতে ভালো লাগে।”

অরুণ গোপালন পরিচালিত এই ছবিতে ইরান-ইজরায়েল সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ আসতেই কিউ স্পষ্টভাবে বলেন, “ভারত এমন এক দেশ, যেখানে সবাইকে নিয়ে চলার একটি ভাবনা ছিল। আমরা কখনও ‘এক নম্বর’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিনি; বরং সবার ভালো থাকার দিকেই নজর দিয়েছি। কিন্তু এখন সে ভাবনা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। আমি খুব একটা দেশপ্রেমিক নই, তবে এই বহুত্ববাদী ভাবনা আমার কাছে অত্যন্ত প্রগতিশীল মনে হয়।”

কিউ-এর মতে, ‘তেহরান’ তথাকথিত দেশাত্মবোধক ছবির মতো নয়। বরং আন্তর্জাতিক কাহিনি ও বাস্তবতার ছোঁয়া রেখেই এটি তৈরি হয়েছে। এখানেই তিনি তুলনা টানলেন বলিউডের তথাকথিত ‘প্রোপাগান্ডা’ সিনেমার সঙ্গে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি নিয়েও মন্তব্য করলেন তিনি। “বিবেকের ছবিগুলো নিছক প্রোপাগান্ডা। বহু বছর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখন তিনি ভেবেছিলেন আমিও হয়তো প্রোপাগান্ডা ছবি বানাতে চাই,” বলে হাসলেন কিউ।

শুধু বিবেক নয়, অক্ষয় কুমারের বহু ছবিকেও কিউ সরাসরি ‘রাজনৈতিক পয়সায় তৈরি’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর সাফ কথা, “এই ছবিগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক অর্থে বানানো হয়েছে। বলিউডে বেশির ভাগ মানুষেরই নিজের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান নেই। যেদিকে টাকা, সেদিকেই তারা যায়। খানদের অবশ্য একটু আলাদা বলা যায়। তবে আমার তো মুম্বইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই, তাই এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।”

এমন খোলামেলা মন্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায়, কিউ বাণিজ্যিক চাপের বাইরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। পরিচালক হয়েও মাঝে মাঝে অভিনয়ে নামার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “বন্ধুরা ডাকলে অভিনয় করব, নাহলে নয়। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে নেই।”

২০১৬ সাল থেকে কিউ দেশের সমান্তরাল সিনেমার জগতে নিজের ভিন্নধর্মী কাজের জন্য পরিচিত। তাঁর ভাষায়, সিনেমা হওয়া উচিত প্রশ্ন তোলার মাধ্যম, প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর নয়। ‘তেহরান’-এর মতো ছবি তাঁর এই দর্শনকেই ফুটিয়ে তোলে।

বলিউড যেখানে প্রায়শই রাজনৈতিক অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক চাহিদার চাপে নান্দনিকতা হারিয়ে ফেলে, সেখানে কিউ এবং তাঁর মতো নির্মাতারা অন্য ধারা তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর মতে, সিনেমার উদ্দেশ্য শুধু দেশপ্রেমের বুলি আওড়ানো নয়, বরং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করানো।

কিউ-এর স্পষ্টবাদিতা এবং ‘তেহরান’-এর মতো সিনেমার আন্তর্জাতিক ধাঁচ প্রমাণ করে, মূলধারার বাইরে দাঁড়িয়েও দর্শকের মনে দাগ কাটা সম্ভব। ভবিষ্যতে তিনি বলিউডে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলবে, তবে তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শকরা এক নতুন ভাবনার দুনিয়া খুঁজে পাবেন, এটা নিশ্চিত।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *