ঘুমের আগে নাকি ঘুম ভাঙার পর পড়া ভালো?!
পড়াশোনার সময় বেছে নেওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। বিশেষত পরীক্ষার সময় বা কর্মক্ষেত্রে নতুন কিছু শেখার প্রয়োজন হলে, এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসে—শোবার আগে পড়া ভালো, নাকি ঘুম ভাঙার পর? বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই সময়েরই রয়েছে আলাদা উপকারিতা।
ঘুমের আগে পড়ার সুবিধা
দিনভর কাজ বা পড়াশোনার পর যখন রাতে বই হাতে নেওয়া হয়, তখন অনেকেরই চোখে ঘুম এসে যায়। দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি মনে রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করলেও ঘুমের আগে পড়া বিষয় মনে গেঁথে রাখতে সাহায্য করে। কারণ ঘুমের সময় মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়া করে সেগুলিকে স্মৃতিতে স্থায়ী করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠিন বিষয় বা মুখস্থ করার দরকার এমন অংশ ঘুমানোর আগে ঝালিয়ে নেওয়া সবচেয়ে উপযোগী।
ঘুম ভাঙার পর পড়ার সুবিধা
ভোরের সময় মস্তিষ্ক সতেজ থাকে, মনোযোগ ও সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতাও বেশি থাকে। তাই নতুন বিষয় বোঝা, জটিল সমস্যা সমাধান করা বা সৃজনশীল পড়াশোনার জন্য সকালের সময়টাই সবচেয়ে কার্যকর। তবে যদি রাতের ঘুম ঠিকমতো না হয়, সকালের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হতে পারে। আবার যারা স্বভাবতই রাত জাগেন, তাদের জন্য সকালের সময় পড়া কম ফলপ্রসূ হতে পারে।
ঘুম ও স্মৃতির সম্পর্ক
মনোবিদ আত্রেয়ী ভট্টাচার্যের মতে, ঘুম এবং স্মৃতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে দুটি ধাপের সাইকেল চলে—নন-র্যাপিড আই মুভমেন্ট (নন-রেম) এবং র্যাপিড আই মুভমেন্ট (রেম) স্লিপ। নন-রেম স্লিপে গভীর ঘুম হয় এবং মস্তিষ্ক তখন সাম্প্রতিক শেখা তথ্য সংরক্ষণ করে। প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী এই ঘুমে মস্তিষ্ক নতুন তথ্যকে মজবুতভাবে ধরে রাখে। এরপর আসে রেম স্লিপ, যেখানে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং তথ্য সংহত করতে সাহায্য করে। প্রতি রাতে সাধারণত চারটি এমন সাইকেল সম্পূর্ণ হয়, যা শেখা বিষয় দীর্ঘদিন মনে রাখতে সাহায্য করে।
কোন সময়টি বেছে নেবেন?
যারা নতুন কিছু বোঝার বা সৃজনশীল চিন্তার জন্য পড়ছেন, তাদের জন্য ভোর বা সকালের সময় বেশি উপযোগী। আর মুখস্থ করার মতো বিষয় মনে গেঁথে রাখতে চাইলে ঘুমানোর আগে পড়া কার্যকর। অর্থাৎ, নিজের প্রয়োজন ও ঘুমের অভ্যাস অনুযায়ী সময় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ঘুমের মান ঠিক রেখে এবং পড়ার সময় সঠিকভাবে ভাগ করলে শেখার দক্ষতা বাড়বে এবং তথ্য মনে থাকবে দীর্ঘদিন।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী