সেনা নামানো হল রাস্তায়
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা রাস্তায় রাস্তায় উত্তাল বিক্ষোভে টগবগ করছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের বিলাসবহুল সুবিধা ও বৈষম্যমূলক সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলছে আন্দোলন। সোমবার সংঘর্ষে ছ’জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর রাস্তায় সেনা মোতায়েন করেছে প্রশাসন। তবুও রাত গভীর পর্যন্ত রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ঢল অব্যাহত ছিল।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রাপ্ত বিপুল সুবিধা নিয়ে। জানা গেছে, প্রতিটি সদস্য আবাসন ভাতা হিসাবে যে অর্থ পান, তা দেশের ন্যূনতম মাসিক বেতনের প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই অসমতা ও বৈষম্যের প্রশ্ন থেকেই ক্ষোভ জমতে শুরু করে। তবে সেখানেই থামেনি প্রতিবাদ। আন্দোলনের দাবির তালিকায় যোগ হয়েছে করবৃদ্ধি, ছাঁটাই, এবং লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির মতো সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এমন নানা বিষয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত সপ্তাহে, যখন এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণ আফফান পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান। এই মৃত্যুই যেন আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। মুহূর্তেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।
জাকার্তার পাশাপাশি সুমাত্রার পালেমবং, বোর্নিও দ্বীপের বানজারমাসিন এবং জাভা দ্বীপের ইয়োগ্যাকার্তার মতো শহরগুলিও আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাত জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাফতা কাইসিয়া কামেলিয়া সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য পার্লামেন্ট সংস্কার। আমরা চাই আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। তারা আমাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় তাঁদেরই।”
সরকার আন্দোলন দমনে পুলিশি নজরদারি এবং সেনা মোতায়েন করলেও বিক্ষোভকারীরা পিছু হটেননি। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক এবং সরকারি ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও, যেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। এই আন্দোলন যেন সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিক্ষোভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান খুঁজবে, নাকি আরও কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করবে। আপাতত সেনার উপস্থিতি সত্ত্বেও রাজধানী জাকার্তা এবং আশপাশের শহরগুলোতে অস্থিরতার আবহ বিরাজ করছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ