গ্রাহকের নথি ব্যবহার করে কোটি টাকার প্রতারণা!
গ্রাহকের জমা দেওয়া নথি কাজে লাগিয়ে চারটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক বেসরকারি ব্যাঙ্ককর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার কলকাতার নারায়ণপুর থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত কর্মী কুশল রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসতেই ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে জয়ন্ত পাল নামে এক গ্রাহক ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কে নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেন। গ্রাহকের দাবি, তিনি কুশল রায়ের হাতেই সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নামে কোনও অ্যাকাউন্ট খোলেনি ব্যাঙ্ক। বরং অভিযোগ উঠেছে, কুশল গোপনে সেই নথি ব্যবহার করে চারটি আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন এবং সেগুলি দিয়ে শুরু হয় অবৈধ লেনদেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটুকু জানা গেলেও, এই অর্থের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ব্যাঙ্কের নথি খতিয়ে দেখে দেখা যায়, জয়ন্তবাবুর নামে জমা দেওয়া কাগজপত্র কুশল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। কাগজপত্র মিলিয়ে দেখার পর নিশ্চিত হয় পুলিশ যে এই প্রতারণার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কুশল রায়। এরপরই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে যাতে প্রতারণা চক্রের পুরো চিত্র সামনে আনা যায়। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই প্রতারণা কুশলের একার কাজ কিনা, নাকি এর পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে।
এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা সমস্ত অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য খুঁটিয়ে দেখছি। কোথা থেকে টাকা এসেছে, কোথায় গেছে এবং কারা এই চক্রের অংশ, তা বের করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এই ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, যদি জমা দেওয়া নথি নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যবহার করাই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাঙ্কের ভেতরে আরও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা এবং নিয়মিত অডিট প্রক্রিয়া জরুরি।
প্রতারণা রুখতে ব্যাঙ্ককর্মীদের কার্যকলাপের উপর নজরদারি, গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। কুশল রায়ের গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য হলেও পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—এই প্রতারণার জাল কতটা বড়, তা পুরোপুরি উন্মোচন করা।
এই ঘটনার পর ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।