আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের জেরায় অতীন ঘোষ, ‘সহযোগিতার আশ্বাস’ কলকাতার ডেপুটি মেয়রের

আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের জেরায় অতীন ঘোষ! আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এবার কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক অতীন ঘোষের বাড়িতে হানা…

August 29, 2025
1 min read

আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের জেরায় অতীন ঘোষ!

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এবার কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক অতীন ঘোষের বাড়িতে হানা দিল সিবিআই। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ তদন্তকারী দল তাঁর শ্যামবাজারের বাড়িতে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতীন জানান, তাঁকে ‘সাক্ষী’ হিসেবেই ডাকা হয়েছিল এবং তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।

অতীনের কথায়, “বুধবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় আমাকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। আমি স্থানীয় বিধায়ক হওয়ার কারণে আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ছিলাম। সেই ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে সব জানিয়েছি।’’ তিনি আরও বলেন, “২০২২ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ১২টি বৈঠক হয়েছে। তার মধ্যে আমি ৮-১০টিতে গিয়েছি। এই সমিতিতে আমার দায়িত্ব সীমিত ছিল।’’

তদন্তকারীরা তাঁকে ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি সতর্কতার কারণে নোটিসের অপেক্ষা করেছিলেন বলে জানান অতীন। “সিবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমি নাগরিক হিসেবে সহযোগিতা করা আমার কর্তব্য বলে মনে করি,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে সাম্প্রতিক ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর উঠে আসে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। হাসপাতালের টেন্ডার ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। সেই সূত্রেই শুক্রবার অতীনের বাড়িতে যায় সিবিআই।

তবে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার রাজনৈতিক রং লেগেছে। অতীন নিজে বলেছেন, ‘‘আমার রাজনৈতিক চরিত্র সবার জানা। ১৫ বছর ধরে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে আছি। কেউ কখনও আঙুল তুলতে পারেনি। সিবিআই বাড়িতে এসেছে বলে আমার খেদ নেই।’’

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম অবশ্য সরাসরি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নির্বাচন যত এগোবে, কেন্দ্র তত ইডি ও সিবিআইয়ের উপর ভরসা করবে। আমরা ভরসা করব মানুষের উপর।’’ ফিরহাদ আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। “আমাকে সিবিআই অফিসারেরা বলেছেন, দিল্লি থেকে ফোন আসে, তাঁদের কিছু করার থাকে না।’’

শুক্রবারের জিজ্ঞাসাবাদের পর স্পষ্ট, এই মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসছে। রোগী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। অতীনের বক্তব্যে পরিষ্কার, তিনি নিজেকে কেবলমাত্র সাক্ষী হিসেবেই দেখছেন এবং তদন্তে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

ঘটনাটি আবারও সামনে আনল রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী কী নতুন তথ্য উঠে আসে এবং তা কতটা প্রভাব ফেলে রাজ্য রাজনীতিতে।

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে সহজ জয় রাডুকানু ও আজ়ারেঙ্কার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *