ইতালিতে তোলপাড়!
ইতালি জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং আরও কয়েকজন প্রভাবশালী মহিলা নেত্রীর বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁদের ছবি চুরি করে কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন যোগ করে সাইটটিতে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এর ফলে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থার দাবি।
প্রকাশিত ছবিগুলির অনেকগুলোই ছিল আনুষ্ঠানিক মঞ্চে তোলা অথবা ব্যক্তিগত ছুটির মুহূর্তের। কিন্তু সেগুলিকে এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে যে তা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভঙ্গিমা এবং কুরুচিকর মন্তব্যে ভরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ছবির কিছু অংশে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জুম করে দেখানো হয়েছে, আবার কিছু ছবিতে অশালীন মন্তব্য সংযোজন করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটটির জনপ্রিয়তা যথেষ্টই বেশি। জানা গিয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে চালু থাকা এই প্ল্যাটফর্মের বর্তমানে সাত লক্ষেরও বেশি সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাইটটি কোনো কার্যকর নজরদারি ছাড়াই চালু ছিল। এই ঘটনার পর বিরোধী দল এবং মহিলাদের সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এমন ওয়েবসাইট বন্ধ করার দাবি তুলেছে।
ঘটনার জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, শুধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নন, তাঁর বোনেরও বিকৃত ছবি সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মেলোনি এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী ভ্যালেরিয়া ক্যাম্পাগনা সরব হয়ে বলেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনের ছবি বিকৃত করে ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে এবং তার নীচে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এটি কেবল আমার সমস্যা নয়, প্রত্যেক মহিলার সমস্যা। সমাজে নারীর মর্যাদা হরণের এ এক জঘন্যতম উদাহরণ।”
ইতালির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে আরও বহু নারী এমন সাইবার অপরাধের শিকার হবেন। প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন আবারও বড় করে সামনে উঠে এসেছে।