ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড: রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলিতে মেঘভাঙা বৃষ্টি, নদীর জলে ভাসছে জনজীবন

ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড! উত্তরাখণ্ড আবারও প্রকৃতির তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত। শুক্রবার সকাল থেকে প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টিতে রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় বিপর্যয় নেমে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়েছে একাধিক…

August 29, 2025
1 min read

ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড!

উত্তরাখণ্ড আবারও প্রকৃতির তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত। শুক্রবার সকাল থেকে প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টিতে রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় বিপর্যয় নেমে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়েছে একাধিক বাড়িঘর, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। ধস ও নদীর প্লাবনে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকায়।

রুদ্রপ্রয়াগ জেলার অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থলে জলস্তর লাগাতার বাড়ছে। কেদারনাথ উপত্যকায় নদীর প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গিয়েছে একটি সেতু। নদীর পাশাপাশি ছোট ছোট নালার জলও প্রবেশ করছে লোকালয়ে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মেঘভাঙা বৃষ্টির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে রুদ্রপ্রয়াগের বাসুকেদার ও চামোলির দেবল এলাকায়। দেবলে এক দম্পতি নদীর জলে ভেসে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ মেলেনি। কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ রয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

জল ঢুকে পড়েছে বহু বাড়িতে, প্রশাসন সেসব এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। রুদ্রপ্রয়াগের হনুমান মন্দিরও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজে নেমেছে। তিনি নিজে সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং জেলার আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিবালয় থেকে।

এই মেঘভাঙা বৃষ্টি একবারেই নয়—প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে একাধিক জায়গায়। ফলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছাপ স্পষ্ট। রাস্তাঘাট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রকৃতি যেন বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট হলেই তার ফল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সুরাহা মিলবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে রাজ্য সরকার। আপাতত প্রধান লক্ষ্য হল আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা।

উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দারা ফের একবার স্বজন হারানোর শোক আর দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহানুভূতি, সচেতনতা এবং সক্রিয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

ছবিমুক্তির আগেই কোটির ঘরে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ! টলিউডে বাজিমাত এই জুটির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *