কালকূট বিষে ভরা ‘ভূতুড়ে নদী’ আর্কাবতীর পুনর্জন্মের পথে কর্নাটক!

কালকূট বিষে ভরা ‘ভূতুড়ে নদী’! বেঙ্গালুরুর প্রাণস্রোত হিসেবে একসময় যে নদীর স্বচ্ছ জল শহরের তৃষ্ণা মেটাত, আজ তা যেন মৃত্যুর ফাঁদ। কর্নাটকের আর্কাবতী নদীকে এখন ‘ভূতুড়ে নদী’ বলা হয়—কারণ তার…

August 27, 2025
1 min read

কালকূট বিষে ভরা ‘ভূতুড়ে নদী’!

বেঙ্গালুরুর প্রাণস্রোত হিসেবে একসময় যে নদীর স্বচ্ছ জল শহরের তৃষ্ণা মেটাত, আজ তা যেন মৃত্যুর ফাঁদ। কর্নাটকের আর্কাবতী নদীকে এখন ‘ভূতুড়ে নদী’ বলা হয়—কারণ তার জলে মিশেছে বিপজ্জনক রাসায়নিক, ফসফরাস এবং নানা শিল্পবর্জ্য। পানীয় তো দূরের কথা, এই নদীর জলে স্নান করলেই চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়। তবে আশার আলো জ্বলেছে কর্নাটক সরকারের উদ্যোগে। কংগ্রেস শাসিত সিদ্দারামাইয়া সরকার আর্কাবতীর পুনর্জন্মের জন্য শুরু করেছে এক বৃহৎ প্রকল্প।

আর্কাবতীর যাত্রা শুরু নন্দী পাহাড় থেকে। প্রায় ৫৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এটি মিশেছে কাবেরী নদীতে, যাকে বলা হয় ‘দক্ষিণের গঙ্গা’। এক সময় এই নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ ও নির্মল ছিল যে ১৯৩৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর প্রধান পানীয় জলের উৎস ছিল এটি। কিন্তু অবৈধ দখলদারি, নির্বিচারে বৃক্ষরোপণ, নদীর তীরে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চল এবং অযাচিত নলকূপ খননের ফলে আর্কাবতী ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়, আর অবশিষ্ট জল হয়ে ওঠে বিষাক্ত।

২০০০ সালের পর নদীর দূষণ ভয়াবহ আকার নেয়। আইআইটি মাদ্রাজ এবং ‘পানি ডট আর্থ’-এর গবেষণায় প্রকাশ পায়, আর্কাবতীর জলে অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পেয়েছে, ফলে নদীটি হয়ে উঠেছে বিষাক্ত জলজ উদ্ভিদ এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রজননক্ষেত্র। এমনকি যেখানে জল তুলনামূলক স্বচ্ছ দেখা যায়, সেখানেও তা পান করার অযোগ্য।

এই পরিস্থিতি বদলাতে কর্নাটক সরকার এ বছর জুনে ঘোষণা করেছে একটি মেগা রিভার রিজুভেনেশন প্রজেক্ট। ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ মডেলে এই প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পরিবেশবিদরাও। গঠন করা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, যারা বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদী পুনরুদ্ধারের রূপরেখা তৈরি করবে। নদীর প্রতিটি অংশের সঠিক অবস্থা জানার জন্য ড্রোন-ভিত্তিক জরিপ শুরু হয়েছে।

সরকার শিল্পাঞ্চলগুলিতে অত্যাধুনিক বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে, বিশেষ করে ডোডাবাল্লাপুরা ও বেসিত্তিহাইলি এলাকায়, যেখানে সবচেয়ে বেশি রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে মিশছে। পাশাপাশি, নদীতীরবর্তী এলাকায় নলকূপ খনন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ দখলদারি রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যদিও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ নয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমি অধিগ্রহণ, শিল্প সংস্থা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থানে প্রভাবের মতো চ্যালেঞ্জ আসবে নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু প্রশাসনের দৃঢ় মনোভাব প্রকল্পটিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বেঙ্গালুরু জল সরবরাহ বোর্ডের চেয়ারম্যান রাম প্রসাত মনোহর বলেছেন, ‘‘পুরো অববাহিকার মাত্র ১৫ শতাংশ জমি পেলে এই প্রকল্প সফল করা সম্ভব। শহরকে আমরা জলশূন্য হতে দেব না, তাই জনগণের সহযোগিতা খুব জরুরি।’’

এককালে যেখানে আর্কাবতীর জল ছিল জীবনদায়ী, সেখানে আজ তা মৃত্যুফাঁদের সমান। এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে শুধু কর্নাটক নয়, সারা ভারতের নদী বাঁচানোর প্রচেষ্টা নতুন দিশা পাবে। নদী শুধু জলের উৎস নয়, এক শহরের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতীকও বটে। তাই আর্কাবতীর পুনর্জন্ম শুধু পরিবেশ নয়, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতকেও রক্ষা করবে।

দক্ষিণী স্বাদের অনন্য ভর্তা: এল্লু থুভৈয়াল, গরম ভাতে ঘি মেখে খেতে একেবারে স্বর্গীয়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *