হাঁপানি, হাড়ে ব্যথা, স্মৃতিভ্রম মানেই জটিল রোগ নয়!!
শরীর প্রতিদিন নানা কাজ করে চলেছে অটোমেটিকভাবে—হৃদস্পন্দন থেকে শুরু করে হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে স্নায়ুর কার্যকলাপ—সব কিছুই সম্ভব হচ্ছে সঠিক পুষ্টির কারণে। খাবারের মাধ্যমে শরীরে যে ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ প্রবেশ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটিরই আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। কেউ হাড়কে মজবুত রাখে, কেউ স্নায়ুকে সুস্থ রাখে, কেউ বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। কিন্তু এই পুষ্টিগুলোর যেকোনও একটি ঘাটতি হলেই শরীরে দেখা দিতে পারে নানা অস্বাভাবিক উপসর্গ।
পুষ্টিবিদ রমিতা কৌরের মতে, অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা পেশির ব্যথার মতো উপসর্গকে মানুষ গুরুতর রোগের লক্ষণ বলে ভুল বোঝেন। অথচ এগুলির পেছনে থাকতে পারে সাধারণ পুষ্টির ঘাটতি। তাই শরীরে যে ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে সেগুলোকে চিনে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পুষ্টির অভাবে শরীরে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয়:
- আয়রনের অভাব:
শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হতে পারে ক্রমাগত ক্লান্তি, দুর্বলতা, ত্বকের ফ্যাকাশে রং, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়া ও চুল পড়ার মতো সমস্যা। - ভিটামিন ডি-এর অভাব:
হাড়ে ও পেশিতে ব্যথা, শরীরে সবসময় ক্লান্তি, ঘন ঘন সংক্রমণ, এমনকি হতাশা দেখা দিতে পারে। শিশুদের রিকেটস ও প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। - ভিটামিন বি১২-এর অভাব:
হাতে-পায়ে শিরশিরানি, স্মৃতিভ্রম, বারবার মেজাজ পরিবর্তন, ত্বকের ফ্যাকাশে ভাব, জিভে প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যার কারণ হতে পারে বি১২ ঘাটতি। - ক্যালশিয়ামের অভাব:
হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, দাঁত ক্ষয়, পেশির ব্যথা, অস্টিওপোরোসিস ও নখ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। - ভিটামিন এ-এর অভাব:
চোখে অন্ধকারে দেখার সমস্যা, চোখের শুষ্ক ভাব, ত্বকের বিভিন্ন অসুখ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। - আয়োডিনের অভাব:
ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া এবং মনোযোগ বা বুদ্ধি প্রয়োগে অসুবিধা আয়োডিনের ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ।
কীভাবে সতর্ক হবেন:
এই উপসর্গগুলোর কোনওটি দেখা দিলে ভয় না পেয়ে আগে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধসহ সুষম খাবার খেলে শরীর স্বাভাবিকভাবে পুষ্টি পাবে। তবুও যদি উপসর্গ না কমে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সুস্থ শরীরের জন্য কেবল ওষুধ নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকে হালকা ভাবে না নিয়ে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিন।