কবীরের সরল প্রশ্নে কোয়েল মল্লিকের পুজোর রূপান্তর!
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজো শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। সেই পুজোরই অন্যতম প্রাণকেন্দ্র অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। এক সময় রূপালি পর্দার ব্যস্ততম নায়িকা হলেও আজ তিনি দুই সন্তানের মা—পাঁচ বছরের ছেলে কবীর এবং কেবল হামাগুড়ি দেওয়া ছোট্ট মেয়ে কাব্য। মা হওয়ার পর থেকে কোয়েলের পুজো শুধুমাত্র সাজগোজ আর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পরিবারের ছোটদের ঘিরেই এখন তাঁর সব আনন্দ।
কাব্যর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। তাই কোয়েলের উৎসাহের সীমা নেই। আগেই ছোট্ট মেয়ের জন্য নতুন জামা বানানোর অর্ডার দিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে নিজের পোশাক নিয়ে ভাবার সময়ই পাচ্ছেন না। কোয়েল জানালেন, “শাড়ি বা জামাকাপড়ের কথা ভাবব সব শেষে। বাড়ির পুজোর আনন্দটা সন্তানদের চোখে দেখতেই বেশি ভালো লাগে।”
ছেলে কবীর এখন পুজোর মাহাত্ম্য বুঝতে শিখেছে। পুজোর শাঁখ বাজানোর দায়িত্ব যে প্রতি বছর কোয়েলের, তা কবীর গর্বের সঙ্গে দেখে। বাবা নিসপাল সিং রানে ও দাদু রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে কাঁসর বাজানোও শিখে নিয়েছে সে। কোয়েল হেসে বলেন, “কবীর এখন পুজোয় ভীষণ উত্তেজিত থাকে। ওর কাছে বোনু আসার পর আনন্দটা দ্বিগুণ হয়েছে।”
পর্দায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ রূপে কোয়েলকে দেখে কবীর ভয় পেয়েছিল আগেরবার। সেই স্মৃতিচারণ করে কোয়েল বলেন, “কবীর আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, মা দুর্গার বেশি শক্তি, না মায়ের? এমন প্রশ্নে কী উত্তর দেব বুঝতে পারি না। শুধু বলেছি, মা দুর্গার চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই।”
২০২৪ সালের পুজোয় কোয়েল ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তখনও তিনি স্বামী ও বাবার হাত ধরে মায়ের বিসর্জন দিয়েছিলেন। এক বছরে জীবন অনেক বদলে গিয়েছে। এখন দুই সন্তানের হাসি-কান্নায় ভরা তাঁর দিনযাপন।
গত বছর নিরাপত্তার কারণে মল্লিক বাড়ির দরজা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। কোয়েল জানালেন, “এবার সবাইকে নিয়ে আবার পুজোয় মাতব। কবীরের চোখে যে আনন্দ দেখি, সেটা আমাকে আমার শৈশবের দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।”
মায়ের দায়িত্ব সামলানো আর পুজোর আবহ মিলিয়ে কোয়েলের জীবন এখন এক নতুন রূপ পেয়েছে। তাঁর কাছে দুর্গাপুজো আর কেবল পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, বরং সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক অমূল্য সময়।