পণের জন্য নৃশংস হত্যা!
পণের জন্য অত্যাচার যে এখনও কতটা ভয়াবহ আকারে সামনে আসে, তার মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা। মাত্র ৩৬ লক্ষ টাকার জন্য জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল তরুণী নিকি ভাটিকে। অভিযোগের তীর উঠেছে তাঁর স্বামী বিপিন ভাটি এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে।
ঘটনা ঘটার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে বিপিনের একাধিক পোস্ট আরও প্রশ্ন তুলছে। স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠার আগে তিনি লেখেন, ‘‘নিকি, তুমি কেন এ কাজ করলে? কেন কাউকে না জানিয়ে এভাবে চলে গেলে? এখন লোকে আমাকে খুনি বলবে।’’ পুলিশের ধারণা, আগেভাগেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইছিল বিপিন। এমনকি নিজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘‘তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে আমার জীবনে অন্যায়ই হচ্ছে।’’
কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। নিকি ও বিপিনের ছোট ছেলেটি পুলিশের কাছে জানায়, তার মাকে সামনে সামনে কীভাবে মেরে ফেলা হয়েছিল। তার বয়ান অনুযায়ী, বাবা বিপিন, দাদু-ঠাকুমা এবং কাকারা মিলে পরিকল্পিত ভাবে মাকে প্রথমে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। তারপর দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিকি।
নিকির দিদি কাঞ্চন জানিয়েছেন, দুই বোনেরই বিয়ে হয়েছিল একই পরিবারে— তিনি বিপিনের দাদা রোহিতের সঙ্গে, আর নিকি বিয়ে করেছিলেন বিপিনকে। বিয়ের সময় একটি এসইউভি গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও একটি গাড়ির দাবি মেনে নেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির লোভ কমেনি। ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল ৩৬ লক্ষ টাকার জন্য। কাঞ্চনের অভিযোগ, বিপিন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই নিকিকে মারধর করতেন। সন্তানদের সামনেই গায়ে হাত তোলা হত। একাধিক বার পঞ্চায়েতে জানানো হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি।
২১ অগস্ট আবারও চরমভাবে মারধরের শিকার হন নিকি। কাঞ্চনের দাবি, সেই দিন তাঁকেও বাধা দিতে গিয়ে মারধর করা হয়। নিকিকে চুল ধরে টেনে ফেলা হয় মেঝেতে, গলা টিপে ধরা হয়। তারপরই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর শরীরে।
এই ঘটনার পর গ্রেটার নয়ডায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে মহিলা সংগঠন— সকলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই বিপিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যদিও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
নিকির মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলছে সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে। পণের লোভে এক তরুণীর এভাবে প্রাণ হারানো শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের কাছে লজ্জার। যেখানে আইন এত কঠোর, সত্ত্বেও কেন এখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আপনি চাইলে আমি এই ঘটনাটিকে আরও সমাজকেন্দ্রিক প্রবন্ধ হিসেবে লিখে দিতে পারি, যেখানে পণপ্রথার ভয়াবহতা, আইনের ফাঁকফোকর আর নারীর সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া থাকবে। সেটা কি আপনি চান?
ট্রোলের জবাবে মৌনী রায়: ‘‘ভালবাসা শিখুন, নয়তো জীবন ব্যর্থ’’