নিউ গড়িয়া হত্যাকাণ্ড!
কলকাতার উপকণ্ঠে নিউ গড়িয়ার শান্ত পাড়ায় ঘটেছে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আয়া আশালতা সর্দারই হয়ে উঠলেন ভরসার ভাঙন। মাত্র পাঁচ দিন আগেই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু এত অল্প সময়েই চেনা গেল তাঁর আসল রূপ—সঙ্গীকে বাইরে দাঁড় করিয়ে একাই গৃহকর্ত্রীকে খুন করলেন এই মহিলা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাটের বাসিন্দা ৩৬ বছরের আশালতা প্রতিদিন ভোরে নরেন্দ্রপুর থেকে নিউ গড়িয়ায় আসতেন। বাড়ির কর্তা প্রশান্তকুমার দাস, বয়স ৮২, দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি আর স্পষ্ট করে কথা বলতেও পারতেন না। তাঁর দেখাশোনার অজুহাতেই বাড়িতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন আশালতা। শুক্রবার সকালে সঙ্গী মহম্মদ জালাল মীরকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন তিনি। পুলিশের হাতে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত—হলুদ শাড়ি পরে আশালতা ঢুকছেন দাস পরিবারের বাড়িতে, আর বাইরে অপেক্ষা করছে ধূসর ট্রাউজার্স ও সাদা শার্ট পরা জালাল।
এর কিছুক্ষণ পরেই কাণ্ড ঘটে। তদন্তে জানা গিয়েছে, আশালতাই প্রথমে বৃদ্ধ কর্তার হাত-পা বেঁধে দেন। এরপর টার্গেট করেন ৭৯ বছরের বিজয়া দাসকে। কাপড় দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন, তারপর কাঠের টুকরো দিয়ে আঘাত হেনে মেরে ফেলেন তাঁকে। বৃদ্ধা নিস্তেজ হয়ে পড়তেই তাঁর গয়না একে একে খুলে নেন আশালতা।
অপরাধ শেষে সকাল আটটার মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বেরোনোর সময় শাড়ি বদলেছিলেন। বাইরে তখনও অপেক্ষা করছিলেন তাঁর পুরুষসঙ্গী। পুলিশের মতে, লুটের পরিকল্পনা জালালের হলেও কার্যত খুনের পুরো দায় আশালতার কাঁধে।
বাড়ি থেকে আসলে কত গয়না ও সম্পদ লুট হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, একজন নিহত, আরেকজন অসুস্থ ও বাকশক্তিহীন। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই আশালতা ও জালালের ভাড়া বাড়ি থেকে কিছু সোনার বালা, হাতঘড়ি, এমনকি দেবমূর্তি পর্যন্ত উদ্ধার করেছে।
শনিবার দু’জনকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের ফের আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পুরো ঘটনাটির পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি, এ অপরাধে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, অপরিচিতের ওপর ভরসা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে আশালতার প্রবেশ ছিল সহায়তার নামে, কিন্তু শেষমেশ তা মৃত্যু ও বিশ্বাসঘাতকতায় শেষ হল। সমাজে মানবিকতার জায়গায় যখন লোভ জায়গা নেয়, তখন নিরাপদ আশ্রয়ও পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে।
ট্রোলের জবাবে মৌনী রায়: ‘‘ভালবাসা শিখুন, নয়তো জীবন ব্যর্থ’’