পরিচয়পত্র পাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা!
পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও পরিচিতি নিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের জন্য চালু হচ্ছে সরকার স্বীকৃত পরিচয়পত্র। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। এখন চলছে কার্ডের চূড়ান্ত নকশা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কাজ।
রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিচয়পত্রে থাকবে শ্রমিকের ছবি, নাম, স্থায়ী ঠিকানা, জেলা, ব্লক, থানা, যোগাযোগ নম্বর ইত্যাদি নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মূলত এই কার্ড পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় প্রমাণের একটি সরকারি নথি হিসেবে কাজ করবে, যা তাঁদের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সময় অত্যাবশ্যক হয়ে উঠতে পারে।
এখানেই শেষ নয়। পরিচয়পত্র শুধু তৈরি করলেই হবে না, সেটি যেন প্রত্যেক উপযুক্ত শ্রমিকের হাতে পৌঁছে যায়, সে জন্য আলাদা করে প্রচার ও সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিচয়পত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি হবে অনলাইনের মাধ্যমে। রাজ্য সরকারের ‘কর্মসাথী’ পোর্টালেই নাম নথিভুক্ত করতে হবে শ্রমিকদের। কোভিড পর্বে তৈরি হওয়া এই পোর্টাল মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যেই নির্দিষ্ট ছিল। এবার সেই প্ল্যাটফর্মেই যুক্ত হচ্ছে পরিচয়পত্র সংগ্রহের নতুন ফিচার।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার দাবি অবশ্য নতুন নয়। এই বিষয়ে গত কয়েক বছরে রাজনীতিও কম হয়নি। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সম্প্রতি প্রকাশ্য সভায় বলেন, “পরিচয়পত্র থাকলে শ্রমিকরা কোথা থেকে এসেছেন, সেটা প্রমাণ করতে পারবেন। হেনস্থা অনেকটাই কমবে।” একই দাবি তুলেছে তৃণমূলও— বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসার পর।
রাজ্য সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ ভিন্ রাজ্যে কাজ করতে যান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের একাধিক ভাষণে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানকার মানুষ যেমন বাইরে কাজ করতে যান, তেমনই বাইরের প্রায় দেড় কোটি মানুষ আমাদের রাজ্যেই জীবিকা নির্বাহ করেন।”
তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেক সময়েই ‘বাংলাদেশি’ বলে অপবাদ দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখিয়েও রেহাই মিলছে না। কেউ কেউ এমনকি বাংলাদেশে পুশব্যাকের মুখেও পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পুলিশের শংসাপত্র পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামাল দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিচয়পত্র চালুর সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকার বলছে সময়োপযোগী এবং মানবিক। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রাক্কালে এবং বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (SIR) আবহে এই পদক্ষেপকে রাজনীতি থেকেও আলাদা করে দেখা যাচ্ছে না। পরিচয়পত্র দিয়ে যেমন প্রশাসনিক তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে, তেমনই শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং মর্যাদা— দুই-ই সুনিশ্চিত করার দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?