হামাসের ভিডিওতে আরও এক ইজরায়েলি পণবন্দি, ক্ষোভে ফুটছে নেতানিয়াহুর দেশ!
একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গ, যার ভিতর দিয়ে প্রায় হেঁটে যাওয়াই দায়। সেখানে নীচু হয়ে বসে, কঙ্কালসার এক যুবক মাটি খুঁড়ে চলেছেন। হাতে একটা বেলচা। মুখে আতঙ্ক, শরীরে ক্লান্তি। দুই হাত দিয়ে মাটি তুলে রাখছেন পাশে। মাঝে মাঝে একটু থেমে হাঁপাচ্ছেন। ওই কণ্ঠস্বর—”আমি নিজের কবর খুঁড়ছি”—কানে যেতেই গা শিউরে ওঠে।
ভিডিওতে দেখা ওই যুবক, নাম এভিয়েটর ডেভিড। ইজরায়েলি এই যুবক এখন হামাসের পণবন্দি। এবং এই ভিডিও, যা হামাস সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, তা গোটা ইজরায়েলজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ডেভিডের শীর্ণদেহ, কণ্ঠে নিরাশা এবং কান্নায় ভেঙে পড়া দৃশ্য যেন গোটা জাতির সামনে একটা তীব্র যন্ত্রণা তুলে ধরেছে।
ভিডিওটিতে ডেভিড বলতে শোনা যায়, “প্রতিদিন একটু একটু করে দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে এ বার এখানেই শেষ। এটাই আমার কবর। সময় কেটে যাচ্ছে। জানি না কবে মুক্তি পাব। জানি না আর কখনও পরিবারের সঙ্গে ঘুমোতে পারব কি না।” এই কথাগুলোর পর তাঁর কান্না আর আটকায়নি।
হামাস দাবি করেছে, এটি তাদের দ্বিতীয় পণবন্দি-সংক্রান্ত ভিডিও। তবে অনেকেই বলছেন, এটি নিছক মানবিক সঙ্কট দেখানোর ভিডিও নয়—বরং এটি একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল। ইজরায়েলি প্রশাসনও এমনটাই মনে করছে। তারা জানিয়েছে, এই ভিডিওর মাধ্যমে হামাস বন্দিদের দুর্দশা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।
ডেভিড এখন হামাসের হাতে বন্দি থাকা ৪৯ জন ইজরায়েলির অন্যতম। তাঁর এই করুণ পরিস্থিতি দেখে দেশজুড়ে ক্ষোভের স্ফোট ঘটেছে। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন—এখনও কেন তাঁদের উদ্ধার করা গেল না? এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহু ডেভিডের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব সব পণবন্দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
এই ভিডিও প্রকাশের পর ফের উত্তাল হয়েছে ইজরায়েলি রাজনীতি। পণবন্দিদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উপর চাপ সৃষ্টি করছেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। অনেকেই এই দীর্ঘমেয়াদি দেরিতে অসন্তুষ্ট।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় বহু ইজরায়েলি এবং বিদেশি নাগরিককে অপহরণ করা হয়। তারপর থেকেই ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে সঙ্ঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এখনও বন্দিদের মুক্তির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ডেভিডের মতো আরও অনেক বন্দির আজও দিন কাটছে অন্ধকার সুড়ঙ্গে, অনাহারে, আতঙ্কে। তাঁর সেই একটাই প্রশ্ন—“আর কত দিন?” এই প্রশ্ন শুধু তাঁর নয়, আজ যেন গোটা ইজরায়েলই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।