অদা শর্মাকে নিয়ে হতাশা!
‘দ্য কেরালা স্টোরি’ সিনেমার জন্য জাতীয় স্তরে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন পরিচালক সুদীপ্ত সেন। তার সঙ্গে সিনেমাটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও এল পুরস্কার। অথচ এই স্বীকৃতি নিয়েই মনখারাপ পরিচালকের। খুশি হওয়ার বদলে সুদীপ্তের চোখে এখন হতাশার ছায়া। কারণ, যাঁদের জন্য তিনি পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরা কোনও স্বীকৃতি পাননি। বিশেষ করে অভিনেত্রী অদা শর্মার কথা ভেবেই সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ তাঁর।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুদীপ্ত বলেন, “আমি খুশি হতে পারলাম না। কারণ, আমি একা নই—আমার ছবির পিছনে অনেক পরিশ্রম করেছেন আমার সহকর্মীরা। আমার চিত্রনাট্যকার, রূপটান শিল্পী, আর সবচেয়ে বেশি করে আমার নায়িকা অদা শর্মা—ওরা কেউই কোনও স্বীকৃতি পেল না। সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।”
সুদীপ্ত মনে করেন, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ শুধু তাঁর একার সাফল্য নয়, এটি গোটা টিমের জয়। এই ছবি প্রথমে মুক্তি পেতে দেরি হয়, তারপর বিতর্কের মাঝেই ছবিটি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়া টিমের পরিশ্রমই ছবিটিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে—এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা ছিল, আরও কয়েকটি বিভাগে আমরা স্বীকৃতি পাব। সেটাই হলে মন ভরত।”
এমন সময়ে যখন পরিচালক নিজে সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি পেয়েছেন, তখন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ছবিটি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ছবি পুরস্কৃত হওয়া মানে কেরলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উস্কে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, “এটা শুধু কেরলবাসীর নয়, গোটা দেশের সম্প্রীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”
এই রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে সুদীপ্ত সাফ জানিয়েছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাগিয়ে আমার সিনেমার কৃতিত্বকে ছোট করা যায় না। কোনও শিল্পের সাফল্যকে রাজনৈতিক আক্রমণের ছায়ায় দেখলে তা নির্মাতাদের প্রতি অবিচার।”
এত সফলতা সত্ত্বেও সুদীপ্ত মনে করেন, বলিউডে তিনি আজও একজন বহিরাগত। “গত ২০-২৫ বছর ধরে আমি চেষ্টা করছি, কিন্তু আমি ওই বলিউডি ‘ঘরানার’ নই। ওখানে যে ধরনের সিনেমা হয়, আমার কাজ তার থেকে আলাদা। আমি কখনও বলিউডকে আমার ‘ঘর’ বলে ভাবিনি,” বলেন তিনি।
তবে তিনি এটা নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর মতে, “আমার চিন্তা দর্শকদের নিয়ে। তাঁরা আমার সিনেমা গ্রহণ করছেন কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ডাস্ট্রিতে কে আমাকে চেনে আর কে চেনে না, সেটা আসলে গৌণ।”
পরিচালকের এই স্পষ্ট বক্তব্য যেন ইঙ্গিত দেয়—পুরস্কারের উজ্জ্বল আলোয় থেকেও কেউ কেউ থেকে যান অন্ধকারে। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র কেবল পরিচালকের একার কাজ নয়, একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এবং সেই প্রয়াসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অদা শর্মা—যাঁর স্বীকৃতি না পাওয়ায় আজ সবচেয়ে বেশি কষ্ট সুদীপ্ত সেনের।