হাজার কিলোমিটার পাল্লার নতুন চিনা ক্ষেপণাস্ত্র!
আকাশপথে আধিপত্য ধরে রাখতে যে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলল আবারও। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি চিন এবার তৈরি করে ফেলেছে এক নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার। এই মারণাস্ত্র ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ-র হাতে এসে পৌঁছনোর পর থেকেই গোটা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকার সামরিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটে যেতে সক্ষম। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ আকাশে দৃশ্যের বাইরে থাকলেও, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই চিনা বিমানবাহিনী তা লক্ষ্যভেদ করতে পারবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সামরিক শক্তির প্রতিও তৈরি হয়ে উঠছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র একদিকে যেমন আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে বদল আনতে পারে, তেমনই তা আমেরিকার এফ-৩৫ লাইটনিং, এফ-২২ র্যাপটার, এমনকি ‘অদৃশ্য’ বোমারু বি-২ স্পিরিট বা সদ্য আগত বি-২১ রাইডারকেও বিপদের মুখে ফেলতে পারে। কারণ, এত দীর্ঘ পাল্লার কোনো ‘এয়ার-টু-এয়ার’ মিসাইল এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই।
বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনাতেও এটি বেশ এগিয়ে। যেমন, ফ্রান্সের ‘মেটিওর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যেখানে ২০০ কিলোমিটারের আশেপাশে, আমেরিকার ‘এআইএম-১৭৪বি’ বা রাশিয়ার ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিমির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তুলনায় চিনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এই পাল্লাকে এক লাফে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই মারণাস্ত্র যদি যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বেজিংয়ের দিকে একচেটিয়াভাবে হেলে পড়তে পারে। বিশেষ করে যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাঁধে, তাহলে চিন তাদের আকাশসীমা অতিক্রম না করেই যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যুদ্ধবিমানগুলিকে নিশানা করতে পারবে।
তবে কিছু সংশয় এখনও থেকেই যাচ্ছে। অতীতেও দেখা গিয়েছে, চিনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী তেমন কার্যকর ফল পায়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু সাবধানতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক।
তবুও এটা বলাই যায়, প্রযুক্তির দৌড়ে চিন যে আর পিছিয়ে নেই, বরং অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আর তাদের উপযুক্ত মিসাইল প্রযুক্তি হাতে চলে এলে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে ‘ডগফাইট’ একেবারে নতুন মাত্রা পাবে।
এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—এই নতুন হাইপারসনিক হাতিয়ার কি বিশ্বে সামরিক শক্তির ভারসাম্যে আমূল বদল আনতে চলেছে? আর যুক্তরাষ্ট্র তার জবাবে ঠিক কী নিয়ে আসছে, সেদিকেও এখন নজর গোটা দুনিয়ার।
১০ জনের মোহনবাগান মহমেডানকে হারিয়ে ডুরান্ডে জয়লাভ, নায়ক লিস্টন কোলাসো