ফের আগুন শহরে! বন্ডেল গেটের পাশে মেডিক্যাল কারখানায়!
শহরের বুকে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বড়বাজার ও খিদিরপুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার আগুন লাগল বন্ডেল গেটের ঠিক পাশেই, একটি মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরির পুরনো কারখানায়। শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ আচমকাই আগুন দেখা যায় দে’জ মেডিক্যাল নামের কারখানায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা এলাকা ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ার ঘনচাদরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানার ভিতরে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক মজুত ছিল। সম্ভবত সেই কারণেই আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষায়, বিকেলের দিকে প্রথমে হালকা ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা ভবন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ছুটে আসে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজ শুরু হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকলকর্মীরা জানাচ্ছেন, কারখানার ভিতর এতটাই তাপ এবং ধোঁয়া যে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এখনও পর্যন্ত। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীদের দাবি, ওই কারখানাটি প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো। কয়েক মাস আগে থেকেই সেখানে কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছিল। এমনকি, শনিবার দুপুরেও কারখানার ছাদে ঝালাইয়ের কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অনুমান, সেই ঝালাইয়ের কাজ থেকেই কোনওভাবে আগুন ছড়িয়ে থাকতে পারে। তবে দমকল বা প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও অফিসিয়াল বক্তব্য মেলেনি।
কারখানার পাশের আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে। অনেক বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন নিরাপত্তার খাতিরে। ধোঁয়ার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে কারও কারও শ্বাসকষ্টেরও সমস্যা দেখা দেয়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয় ঘরবাড়ি থেকে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত এলাকা ঘিরে ফায়ার কন্ট্রোল জোন তৈরি করা হয়েছে। কারখানার সংলগ্ন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে এলাকা খালি করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরে ফের প্রশ্ন উঠছে, পুরনো ও বিপজ্জনক কারখানাগুলির উপরে নজরদারির অভাব নিয়ে। রাসায়নিক মজুত কারখানাগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা সচল ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে খবর, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরে তদন্ত শুরু হবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে।
এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই। তবে কারখানার অভ্যন্তরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ধোঁয়া কমার অপেক্ষা করছে দমকল বাহিনী। এখন সবার একটাই প্রার্থনা— পরিস্থিতি যেন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়িয়ে যাওয়া যায়।
১০ জনের মোহনবাগান মহমেডানকে হারিয়ে ডুরান্ডে জয়লাভ, নায়ক লিস্টন কোলাসো