আকাশপথে আতঙ্ক! মাঝ আকাশে আগুন বিমানে!
মাঝ আকাশে হঠাৎই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। যাত্রী বোঝাই একটি বিমান যখন নিরাপদে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে, তখনই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর এক ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া সংস্থার একটি বিমান মাঝপথে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ায় প্রবল আতঙ্কে ভুগলেন যাত্রীরা। শেষমেশ পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপ আর ভাগ্যের জোরেই রক্ষা পেলেন সকল যাত্রী ও বিমানকর্মীরা।
কী ঘটেছিল সেই বিমানে?
উক্ত বিমানটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড থেকে হোবার্টের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চলছিল সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই। যাত্রীরা বসে ছিলেন নিজের আসনে, কেউ হয়তো ঘুমাচ্ছিলেন, কেউ বা বই পড়ছিলেন। তখনই হঠাৎ এক যাত্রী লক্ষ্য করেন, একটি উইন্ডো সিটের পাশ থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, আসনের নীচে রাখা একটি মোবাইল ফোন থেকে ধোঁয়া উঠছে, তার পরেই তা আগুনে পরিণত হয়।
মাঝ আকাশে বিমানে আগুন—এই পরিস্থিতি কল্পনাই করা যায় না। যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন। বিমানের কেবিন ক্রুরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই চেষ্টাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন সকলে।
পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে রক্ষা
ঘটনার পর পরই পাইলট সিদ্ধান্ত নেন বিমানের রুট পরিবর্তনের। অবিলম্বে ডাইভার্ট করে কাছের একটি বিমানবন্দরে অবতরণের ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপদে জরুরি অবতরণ সম্ভব হওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান ১৭২ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী।
ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, বিমানে থাকা একটি ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। বিমান অবতরণের পরে ওই ডিভাইসটিকে উদ্ধার করা হয় এবং বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তদন্তের জন্য।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে সতর্কতা জরুরি
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, বিমানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকা দরকার। বহু সময় যাত্রীরা নিজের ফোন চার্জে দিয়ে রাখেন, কিংবা সিটের নিচে এমনভাবে ডিভাইস রাখেন যা তাপ বা চাপের কারণে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি যুক্ত যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বা শর্ট সার্কিট হলে বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে। তাই বিমানে ওঠার আগে বা উড়ানের সময় এগুলির ব্যবহারে বাড়তি সচেতনতা দরকার।
যাত্রীদের মনে এখনও সেই আতঙ্ক
যাত্রীরা জানাচ্ছেন, সেই মুহূর্তের ভয় এখনও কাটেনি। অনেকে বলছেন, জীবনে প্রথম এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। একজন যাত্রী বলেন, “বিমানে আগুন! প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। চারপাশে লোকজন চিৎকার করছে, আমি ভাবছিলাম এটাই হয়তো জীবনের শেষ দিন!”
ঘটনার পরে যাত্রীদের চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ গুরুতর আহত না হলেও মানসিকভাবে ধাক্কা খেয়েছেন অনেকেই।
শিক্ষা ও সতর্কবার্তা
এই ঘটনা যেমন এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা, তেমনি একটি বড় শিক্ষা। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি তার ব্যবহারে সচেতনতা না থাকলে মুহূর্তেই তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। মাঝ আকাশে কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা কত বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে—তা এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির