সেনা ড্রোন তৈরিতে রাশিয়ায় শিশুদের ব্যবহার! তদন্তে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

সেনা ড্রোন তৈরিতে রাশিয়ায় শিশুদের ব্যবহার!! রাশিয়ার সামরিক খাতে শিশুদের ব্যবহার নিয়ে উঠে এল ভয়াবহ তথ্য। একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে—সুসংগঠিতভাবে রাশিয়া তাদের সামরিক ড্রোনের নকশা তৈরি ও পরীক্ষার…

July 23, 2025
1 min read

সেনা ড্রোন তৈরিতে রাশিয়ায় শিশুদের ব্যবহার!!

রাশিয়ার সামরিক খাতে শিশুদের ব্যবহার নিয়ে উঠে এল ভয়াবহ তথ্য। একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে—সুসংগঠিতভাবে রাশিয়া তাদের সামরিক ড্রোনের নকশা তৈরি ও পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করছে শিশুদের। এমন অভিযোগ নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে।

কী উঠে এসেছে তদন্তে?

যুক্তরাজ্যের একটি তদন্তমূলক সাংবাদিকতার সংস্থা “The Observer” সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, রাশিয়ার তরফে একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত কর্মসূচির অধীনে স্কুলের ছাত্রদের সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি শেখানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এসব স্কুল পড়ুয়ারা সরাসরি ড্রোন ডিজাইন, নির্মাণ ও ফ্লাইট পরীক্ষার মতো বিপজ্জনক প্রকল্পেও যুক্ত থাকছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘Movement of the First’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি চলছে। শিশুদের ‘দেশপ্রেম’ শেখানোর নামে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের আড়ালে চলছে সামরিক অভিসন্ধি। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীদের এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে টেনে আনা হচ্ছে।

কোথায় হচ্ছে এই কাজ?

রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের সামরিক ড্রোন সংক্রান্ত কর্মশালা বা ওয়ার্কশপ চালানো হচ্ছে। এমনকি তাদের দিয়ে ড্রোনের কার্যকারিতা পরীক্ষাও করানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিতান্তই নিন্দনীয়।

একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, শিশুদের হাতে রিমোট কন্ট্রোল, সামনে ড্রোন, এবং পেছনে শিক্ষক বা প্রশিক্ষক। শিশুরা অনেক সময় নিজেরাই ড্রোন চালিয়ে কোথায় ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শিশু অধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা বিষয়টিকে ‘চরমভাবে নৈতিকতা বিরোধী’ এবং ‘যুদ্ধ-অপরাধের শামিল’ বলে মন্তব্য করেছে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকারের নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কাউকে কোনো সামরিক কাজে নিযুক্ত করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিশুদের এমন কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত করা মানে তাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের মানসিক বিকাশকেও বিপন্ন করে তোলা।

রাশিয়ার অবস্থান কী?

এই বিষয়ে রাশিয়ার তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে তারা বহুবার তাদের দেশের ‘দেশপ্রেমমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা’কে ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছে। শিশুদের স্কুলে সামরিক প্রশিক্ষণ বা অস্ত্রচালনার প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনাও হয়েছে।

কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রেক্ষিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে, তখন রাশিয়ার মতো একটি শক্তিধর রাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ মানবাধিকারের দিক থেকে এক বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ আর রাজনীতির মঞ্চে শিশুদের ব্যবহার শুধু আইনবিরুদ্ধই নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধেও এক মারাত্মক আঘাত।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব আরও বাড়ছে, যাতে এই ধরণের কার্যকলাপ বন্ধ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায়। কারণ যুদ্ধের যন্ত্রে শিশুদের হাত নয়, থাকা উচিত কলম আর খেলনার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *