২১ জুলাই মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শতাব্দী রায়!
২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সেই মুহূর্তে উপস্থিত অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। মঞ্চেই চিকিৎসকদের নজরদারিতে রাখা হয় তাঁকে। আজ, কয়েকদিন পর তিনি নিজেই জানালেন শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি। ভক্ত, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করলেন—শরীর অনেকটাই ভাল আছে এখন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২১ জুলাইয়ের দুপুরে, ধর্মতলার বিশাল সভামঞ্চে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা জমায়েত হয়েছিলেন, তখনই মঞ্চে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন শতাব্দী। সূত্রের খবর, প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল রক্তচাপের ওঠানামা ও সামান্য ডিহাইড্রেশন। নিরাপত্তারক্ষীরা ও চিকিৎসক দল দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিতে হয় তাঁকে মঞ্চের পিছনের নির্দিষ্ট ঘরে।
তবে এখন অনেকটাই সুস্থ শতাব্দী। নিজেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, “অনেকেই জানতে চাইছেন আমি কেমন আছি। জানাতে চাই, এখন অনেকটা ভাল আছি। একটু গরম আর চাপের কারণে শরীর খারাপ লেগেছিল। কিন্তু এখন পুরোপুরি বিশ্রাম নিচ্ছি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছি।”
২১ জুলাইয়ের জনসমাবেশ ঘিরে যে পরিমাণ চাপ ও ব্যস্ততা তৈরি হয়েছিল দলের নেতৃত্বের উপর, সাংসদদেরও সেই চাপ সামাল দিতে হয়েছিল। শতাব্দী রায়ও সভার আগেই একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সভায় যোগ দিতে আসা মানুষদের স্বাগত জানানোর দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ রোদে ঘোরাফেরা, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেই শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এক বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “শতাব্দী দিদি এখন অনেকটাই ভাল আছেন। ওঁর বিশ্রাম দরকার ছিল। আপাতত তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। দলের তরফে ওঁকে যেন কেউ বিরক্ত না করেন, সেই অনুরোধও জানানো হয়েছে।”
তবে শতাব্দীর এই হঠাৎ অসুস্থতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও, তাঁর দ্রুত সেরে ওঠার খবরে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ‘দিদি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো কাজের মধ্যে ফিরে আসুন।’
উল্লেখ্য, শতাব্দী রায় শুধু রাজনীতিতে নন, বরাবরই একজন জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতি—দু’জায়গাতেই তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি রয়েছে। তাই তাঁর শারীরিক অসুস্থতা শুধু দলের কর্মী-সমর্থকদের নয়, সাধারণ মানুষকেও চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।
এই মুহূর্তে তিনি বিশ্রামে থাকলেও আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি মাঠে নামবেন এবং আবারও জনগণের সঙ্গে কাজ শুরু করবেন। তাঁর কণ্ঠেই শোনা গেল আত্মবিশ্বাস—“আমি আবার ফিরে আসব, আগের মতোই।”
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’