নিক্কো পার্কে যুবকের মৃত্যুর নেপথ্যে হৃদ্রোগ!
নিক্কো পার্কে যাত্রার আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গিয়েছিল বিষাদের দিনে। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎই অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বছর পঁচিশের এক যুবক। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে উঠে এল অন্য ছবি।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৬ জুলাই বিকেলে। জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রাজর্ষি ঘোষ। বাড়ি উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে। সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। পার্কের ‘হাই-অকটেন’ নামে একটি রাইডে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। পার্ক কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো রাইড চলাকালীন অসন্তুলিত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন রাজর্ষি। কিন্তু নিক্কো পার্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন, এমন কিছু হয়নি। রাইডটি একেবারে নিরাপদ ছিল বলে জানিয়েছিলেন তাঁরা। এর পর রাজর্ষির দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ময়নাতদন্ত বিভাগ থেকে জানা গিয়েছে, রাজর্ষির মৃত্যু হয়েছে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। সেই কারণে আচমকাই তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের কথায়, ‘‘শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাথা বা শরীরের অন্য কোনও অংশে ক্ষত বা রক্তপাতও নেই। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শরীরের ভেতরের সমস্যা থেকেই এমনটা হয়েছে। হার্টে গুরুতর সমস্যা ছিল।’’
ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং যুবকের পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, রাজর্ষির আগে থেকে কোনও বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশও। তবে বন্ধুরা জানিয়েছেন, রাজর্ষি কোনওদিন শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কিছু বলেননি।
এমন ঘটনা প্রথম নয়। পার্কে ঘোরার সময় বা রাইডের সময় উত্তেজনা, ভয় বা উচ্চতা থেকে আচমকা শারীরিক সমস্যা তৈরি হওয়ার নজির আগেও দেখা গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যাদের হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের এই ধরনের রাইড এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ উত্তেজনা বা অতিরিক্ত গতিবেগে হৃদ্যন্ত্রে চাপ বাড়ে।
নিক্কো পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘‘আমরা দুঃখিত। যাঁর এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সমস্ত সুরক্ষা নিয়ম মেনেই আমাদের রাইডগুলি পরিচালিত হয়। এই ঘটনায় কোনও গাফিলতি ছিল না।’’
রাজর্ষির পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘‘শুরুতে ভেবেছিলাম, হয়তো রাইডের কোনও সমস্যা হয়েছে। তবে রিপোর্টে যা এসেছে, তাতে বুঝলাম শারীরিক কারণেই এমনটা ঘটেছে।’’
তবে এমন ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে যাঁরা হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তাঁদের এই ধরনের রাইডে ওঠার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, আনন্দ যেন দুঃখে না বদলে যায়।
গোপালগঞ্জে উত্তেজনা: ‘নাইন সিরকার’ ওসাম চারজনের মৃত্যু, কারফিউ জারি