মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেলেছেন ভুল করে? কী হতে পারে, কী করবেন

মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেলেছেন ভুল করে? প্রায়শই ওষুধের স্টক রাখতে গিয়ে খেয়াল থাকে না, কোনটা পুরনো আর কোনটা এখনও ব্যবহারের উপযোগী। কখনও কখনও ব্যথা কমানোর বা সর্দি-কাশির পুরনো ওষুধ খেতে…

July 18, 2025
1 min read

মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেলেছেন ভুল করে?

প্রায়শই ওষুধের স্টক রাখতে গিয়ে খেয়াল থাকে না, কোনটা পুরনো আর কোনটা এখনও ব্যবহারের উপযোগী। কখনও কখনও ব্যথা কমানোর বা সর্দি-কাশির পুরনো ওষুধ খেতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে! কিন্তু প্রশ্ন জাগে, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেললে আদৌ কোনও সমস্যা হয় কি?

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ওষুধে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ লেখা থাকে কারণ, নির্দিষ্ট সময় পর সেই ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তবে সব মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক হয় না। এটা নির্ভর করে ওষুধের ধরণ, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কতদিন আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে তার উপর।

মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত দু’ভাবে সমস্যা দেখা দিতে পারে—

  1. কার্যকারিতা কমে যাওয়া:
    অনেক সময় ওষুধ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ক্ষতিকর না হলেও সেটির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে আপনি যে সমস্যার জন্য ওষুধটি খাচ্ছেন, সেটি ঠিকঠাক কাজ নাও করতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনসুলিন জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ।
  2. বিপরীত প্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়া:
    কিছু ওষুধ আছে যেগুলির রাসায়নিক গঠন মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে পরিবর্তিত হতে পারে। এতে বিষক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পুরনো হলে কিডনির ক্ষতি করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে।

কোন কোন ওষুধে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

  • অ্যান্টিবায়োটিক
  • ইনসুলিন
  • চোখের ড্রপ
  • ইনহেলার
  • ইঞ্জেকশনের ওষুধ
  • তরল সিরাপ

এই ধরনের ওষুধে মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার পরে দ্রুত রাসায়নিক পরিবর্তন হতে পারে। তাই এগুলি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

ভুল করে খেয়ে ফেললে কী করবেন?

প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত একটি বা দু’টি ডোজ নিলে তেমন বড় সমস্যা হয় না। তবে কী ধরনের ওষুধ খেয়েছেন এবং কত দিন আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেটা বোঝা জরুরি।

  • যদি শারীরিক অস্বস্তি, পেট খারাপ, বমি, মাথা ঘোরা, চামড়ায় ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমস্যা শুরু হয়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • যদি হার্টের ওষুধ, ইনসুলিন বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক হয়ে থাকে, দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • বাকি ওষুধগুলি যত দ্রুত সম্ভব ফেলে দিন বা ফার্মাসিস্টের কাছে দিয়ে আসুন।

ভবিষ্যতে কীভাবে সাবধান থাকবেন?

  • ওষুধ কেনার সময় তার মেয়াদ দেখে কিনুন।
  • বাড়িতে রাখা ওষুধ প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর এক বার দেখে পুরনো ওষুধ আলাদা করে ফেলুন।
  • ওষুধ এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে খুব গরম বা আর্দ্রতা থাকে না।

উপসংহার

মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে ফেললে সব সময় মারাত্মক ক্ষতি হবে এমন নয়, তবে নির্ভর করে ওষুধের ধরণ ও পরিস্থিতির উপর। নিজের সুরক্ষার জন্য নিয়মিত ওষুধের মেয়াদ দেখে নেওয়া এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

গোপালগঞ্জে উত্তেজনা: ‘নাইন সিরকার’ ওসাম চারজনের মৃত্যু, কারফিউ জারি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *