দুবাইয়ে খুলছে বিশ্বের প্রথম এআই শেফ পরিচালিত রেস্তরাঁ, তবে কি মানুষের রান্না পেশা এখন ইতিহাস?

দুবাইয়ে খুলছে বিশ্বের প্রথম এআই শেফ পরিচালিত রেস্তরাঁ! এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শুধু প্রযুক্তি জগৎ কিংবা ব্যবসায় নয়, এবার সরাসরি প্রবেশ করল রান্নাঘরেও। আগামী সেপ্টেম্বরে দুবাইতে চালু হতে চলেছে এমন এক…

July 17, 2025
1 min read

দুবাইয়ে খুলছে বিশ্বের প্রথম এআই শেফ পরিচালিত রেস্তরাঁ!

এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শুধু প্রযুক্তি জগৎ কিংবা ব্যবসায় নয়, এবার সরাসরি প্রবেশ করল রান্নাঘরেও। আগামী সেপ্টেম্বরে দুবাইতে চালু হতে চলেছে এমন এক অভিনব রেস্তরাঁ, যেখানে রন্ধনশিল্পীর আসনে থাকছে কোনও মানুষ নয়, বরং থাকবে একটি এআই শেফ। রেস্তরাঁটির নাম ‘উহু’ (Woohoo), এবং তাদের দাবি, এটাই বিশ্বের প্রথম এআই পরিচালিত রেস্তরাঁ।

তবে এই নতুনত্বের মাঝেও মানুষের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়নি। রেস্তরাঁর অন্যতম কর্ণধার আহমেট অইটুন কাকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “খাবার তৈরি করবেন অভিজ্ঞ রন্ধনশিল্পীরাই। কিন্তু কোন উপকরণ দিয়ে নতুন স্বাদ তৈরি হবে, কী ধরনের পদ হবে, সেটার পরিকল্পনা দেবে এআই।” এই এআই শেফের নাম রাখা হয়েছে ‘এআইম্যান’। রোবটিক চেহারায় সাজানো হলেও, দু’চোখ ঢাকা বিশেষ চশমায় তার মুখগহ্বর লুকনো।

এআইম্যানের প্রধান কাজ হবে নতুন নতুন রেসিপি তৈরি এবং খাদ্যরসিকদের পছন্দের ধারায় নতুনত্ব আনা। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এর প্রচার শুরু হয়েছে। নিজেকে ‘বিশ্বের প্রথম এআই রন্ধনশিল্পী’ হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিচ্ছে এআইম্যান, নানা ধরনের রান্না শেখাচ্ছে ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে।

তবে প্রশ্ন উঠছে— যেখানে এআই স্বাদ বা গন্ধ বুঝতে পারে না, সেখানে তার কাজের মান কতটা নির্ভরযোগ্য? কর্তৃপক্ষের দাবি, এআইম্যানকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের খাদ্যাভ্যাস, রন্ধনপ্রণালি ও উপকরণের বিশাল তথ্যভান্ডার শেখানো হয়েছে। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এআইম্যান উপকরণের সংমিশ্রণ ও স্বাদের ভারসাম্য ঠিক করতে সাহায্য করবে। তার প্রোটোটাইপ দেওয়া হবে মানুষের হাতে, যাঁরা সেই অনুযায়ী রান্না সম্পন্ন করবেন।

এই পুরো পরিকল্পনার তদারকিতে থাকছেন দুবাইয়ের জনপ্রিয় রন্ধনশিল্পী রিফ ওথম্যান। রেস্তরাঁতে প্রধানত এশীয় এবং পেরু ধাঁচের খাবারই থাকবে। পদগুলিকে দেখতে এবং খেতে যাতে অন্য রকম মনে হয়, তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

যদিও রেস্তরাঁয় খেতে গেলে কতটা খরচ পড়বে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কিছু জানাননি। তবে দুবাইয়ের মতো শহরে এ ধরনের অভিনব রেস্তরাঁতে খরচ যে সাধারণের নাগালের মধ্যে নাও থাকতে পারে, তা বলাই যায়।

সব মিলিয়ে, এআই রন্ধনশিল্পীর আগমন কী মানুষের রন্ধনশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে? এখনই হয়তো নয়। কারণ এখনও পর্যন্ত মানুষের হাতে রান্না করার দায়িত্ব রয়ে গিয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, প্রযুক্তি আর এআই মানুষের সৃজনশীলতার অংশীদার হতে চলেছে নতুন অধ্যায়ে। সময়ই বলে দেবে, এর প্রভাব কতটা গভীর হয়।

ভারতের নিজস্ব এআই-স্মার্টফোন ‘NxtQuantum OS’ উন্মোচন – স্বনির্ভরতা ও গোপনীয়তার প্রতিশ্রুত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *