নিজের গল্প শেয়ার করলেন জ়রিন খান!
ক্যাটরিনা কইফের মতো দেখতে— এই তকমা নিয়ে এক সময় বলিউডে পা রাখলেও, নিজের পরিচিতি গড়তে লড়াই করতে হয়েছিল জ়রিন খানকে। আর সেই লড়াইয়ের পথ একেবারেই সহজ ছিল না। বিশেষ করে যখন তিনি নমাজ পড়া রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তখন সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মন খুলে সেই অভিজ্ঞতার কথাই শেয়ার করেছেন জ়রিন।
জ়রিন জানান, তাঁর দাদু-ঠাকুমা নিয়মিত নামাজ পড়তেন। পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ ছিল বলেই ছোটবেলা থেকে তাঁকে রক্ষণশীলতা মানতে শিখতে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকেই যখন বড় পর্দায় খোলামেলা বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রস্তাব আসে, তখন মানসিক দ্বন্দ্বে পড়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবির আগে।
এই ছবির আগে তাঁর হাতে বেশি কাজ ছিল না। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার তাগিদে এবং আর্থিক কারণে ছবিটি করতে রাজি হন জ়রিন। তবে সেই সিদ্ধান্ত একা নেননি তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার সামনে তখন পরিচালকের লাইন ছিল না। কাজ দরকার ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। তারাও বেশি ভাবতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু শেষ কথা মায়ের সঙ্গে বলেছিলাম। মা পাশে ছিল বলেই সাহস পেয়েছিলাম।”
‘হেট স্টোরি ৩’-এর শুটিংয়ে প্রথম দিকে বেশ অস্বস্তি বোধ করতেন জ়রিন। কিন্তু সহ-অভিনেতারা তাঁকে সহযোগিতা করেন বলে জানান তিনি। এই ছবির সাফল্যের পরে যদিও জ়রিনের কাছে বেশ কয়েকটি সাহসী চরিত্রের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। তবে সবটাই তিনি মেনে নেননি।
এর পরে ‘অকসর ২’ ছবিতে ফের একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। শুটিং শুরুর পরে তিনি বুঝতে পারেন, কিছু দৃশ্য আগেই বলা হয়নি— বিশেষ করে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। জ়রিন বলেন, “আমি সেই দৃশ্য করতে চাইনি। পরিচালকের কাছে গিয়ে জানাই। পরিচালক তখন বলে, এটা প্রযোজকের সিদ্ধান্ত। আমি একেবারেই খুশি ছিলাম না।”
এই ঘটনার জেরে ‘অকসর ২’-এর বিশেষ প্রদর্শন বা প্রোমোশনেও জ়রিনকে ডাকেননি নির্মাতারা। বলিউডে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তাঁর সঙ্গে কাজ করা কঠিন। তবে জ়রিন পরিষ্কার করে জানান, নিজের সীমারেখা রয়েছে তাঁর। এবং সেই জায়গা থেকে কোনও আপস করতে রাজি নন তিনি।
বলিউডে টিকে থাকা যে সহজ নয়, সেটি বার বার বুঝেছেন জ়রিন। তবে পরিবার এবং নিজের বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। বলিউডে সাহসী দৃশ্যের প্রস্তাব আসা নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “সবাই ভাবেন সাহসী দৃশ্যে কাজ করলেই নাম হবে। কিন্তু আমার কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে চাই।”
আজও নিজের শিকড়কে ভোলেননি জ়রিন। বাবা-মা-র উদার মানসিকতা তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে ঠিকই, তবে তিনি জানেন কোথায় থামতে হবে। এমন স্পষ্ট কথা বলার জন্যই হয়তো আজও ভক্তদের কাছে আলাদা জায়গা ধরে রেখেছেন জ়রিন খান।