‘নারী-পুরুষ সমান নয়, সমাজে বোকা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে!’!
বলিউড অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রনৌতকে নিয়ে আবারও নতুন বিতর্ক। এ বার লিঙ্গসমতা বা নারী-পুরুষ সমানাধিকারের প্রশ্নে মুখ খুলে নানা মহলে ক্ষোভ ও চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি লিঙ্গসাম্যে বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, নারী-পুরুষ সমান হতে পারেন না এবং সমাজে সবাইকে সমান ভাবতে গিয়েই আজ বোকা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে কঙ্গনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি নারী-পুরুষ সমতা বিষয়ে কী ভাবেন। উত্তরে কঙ্গনা বলেন, “এই ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে যে, আমরা সবাই সমান। সেটাই সমস্যার মূল। এই কারণেই আজকের সমাজে এক ধরনের বোকাদের প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে গেলে, আমি তো আমার মায়ের মতো নই, অম্বানীজির মতোও নই। উনি আমার সমান নন। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব দক্ষতা আর ভূমিকা আছে। সবাই আলাদা।”
নিজের বক্তব্যকে আরও জোরালো করতে কঙ্গনা উদাহরণ দেন—
“একজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, তাঁর ধৈর্য আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমি আর তিনি এক নই। আবার একটি শিশু ও একজন বৃদ্ধ, অথবা একজন মহিলা ও একজন পুরুষও সমান হতে পারেন না। প্রত্যেকের ভূমিকা ভিন্ন, সেটা বুঝতে হবে।”
এই মন্তব্য সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলেও গুঞ্জন শুরু হয়। কারণ কিছু দিন আগেই কঙ্গনা বলেছিলেন, তিনি রাজনীতি তেমন উপভোগ করছেন না। সেই মন্তব্যে বিজেপির অন্দরেও কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এবার লিঙ্গসমতা নিয়ে এমন স্পষ্ট ও বিতর্কিত মন্তব্য রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কঙ্গনা আরও বলেন, “আজকের প্রজন্ম মনে করে, ওরা জন্মগতভাবে সব জানে। অথচ বাস্তব হচ্ছে, ঊর্ধ্বতনদের ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও ওরা তাতে গুরুত্ব দেয় না। এই প্রজন্ম কাজ করতে চায় না, প্রচারও চায় না। শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। এ ভাবেই বোকা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে।”
কঙ্গনার এই মন্তব্যে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিমত তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি যা বলেছেন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। আবার কেউ কড়া সমালোচনায় মুখর—একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য ‘অশালীন’ ও ‘পিছিয়ে পড়া মানসিকতা’ বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
তবে কঙ্গনা নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ছেন না। বরং তাঁর কথায়, “সবাইকে সমান ভাবা মানেই সমাজের বৈচিত্র্য আর যোগ্যতা ভুলে যাওয়া। তাতে কারওই উন্নতি হয় না।”
এখন দেখার, এই মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলে। তবে এটুকু পরিষ্কার—কঙ্গনা রনৌত যে নিজের স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত অবস্থান বজায় রেখেছেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।