শসা খাওয়ারও আছে নিয়ম!
তৃষ্ণা নিবারণ বা শরীর ঠান্ডা রাখতে রসালো শসার জুড়ি নেই। গরমকালে স্যালাডের প্লেট কিংবা রূপচর্চার উপাদান হিসেবে এর ব্যবহার খুবই পরিচিত। আবার শসা হজমেও সাহায্য করে— এমনটা বহু দিন ধরেই প্রচলিত। তবে সম্প্রতি এক ভাইরাল ভিডিও এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— আদৌ কি দিনভর যখন তখন শসা খাওয়া যায়? নাকি শরীরের কিছু সমস্যা থাকলে এ থেকে হতে পারে বিপরীত প্রতিক্রিয়া?
ভিডিওটিতে এক ফিটনেস প্রশিক্ষক জানাচ্ছেন, “শসা যখন-তখন খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। সকালে বিটনুন দিয়ে খেলে উপকার মেলে। কিন্তু রাতে বা দই দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করাই ভালো।” এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পুষ্টিবিদরাও। তাঁদের মতে, অনেকেই পেটের গ্যাস, ফোলাভাব বা আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome)-এর মতো সমস্যা ভোগেন, এবং তাঁদের জন্য শসা হতে পারে বাড়তি ঝুঁকির কারণ।
কখন শসা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর মতে, শসা খাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ সময় হল দুপুরের খাবারের পর। সকালে ব্রেকফাস্টে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রেও ক্ষতির আশঙ্কা কম। কিন্তু রাতে শসা খাওয়া একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে। এর কারণ, শসায় থাকে একটি রাসায়নিক উপাদান— কিউকারবিটাসিন— যা রাতে পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
কী ভাবে শসা খাওয়া উচিত?
শুধু সময় নয়, খাওয়ার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই স্যালাডে নুন ছড়িয়ে খান বা দই দিয়ে রায়তা তৈরি করেন। পুষ্টিবিদ দীপলক্ষ্মী বলছেন, সামান্য বিটনুন দিয়ে দুপুরে শসা খেলে সমস্যা নেই। কারণ বিটনুন হজমে সাহায্য করে, বিশেষ করে যাঁরা গ্যাস বা ফোলাভাবের সমস্যায় ভোগেন। তবে সকালে খেলে নুন না দিয়েই খাওয়া ভালো। এতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় সোডিয়াম ঢোকার আশঙ্কা থাকে না।
তবে দই দিয়ে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা জরুরি। পুষ্টিবিদ শ্রেয়ার মতে, যাঁরা আইবিএস, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য শসা-দই মিশিয়ে খাওয়া উপযুক্ত নয়। অতিরিক্ত দই আর শসার সংমিশ্রণ পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে যাঁদের হজমের সমস্যা নেই, তাঁদের জন্য রায়তা খাওয়া নিরাপদ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শসা যতটা উপকারী, ঠিক ততটাই সচেতন হতে হবে এটি খাওয়ার পদ্ধতি ও সময় নিয়ে। নিয়ম মানলে এটি যেমন শরীর ঠান্ডা রাখবে, তেমনি হজমেও সাহায্য করবে। কিন্তু না মানলে উল্টো হতে পারে ক্ষতি।
রাত জাগলেই বাড়ছে হাঁপানির ঝুঁকি! মহিলারা সবচেয়ে বিপন্ন, কারণ লুকিয়ে হরমোন আর উদ্বেগে