মিশরের অভিশপ্ত সমাধির ছত্রাকেই মিলছে ক্যানসার সারানোর আশার আলো!

মিশরের অভিশপ্ত সমাধির ছত্রাকেই মিলছে! তিন হাজার বছরের পুরনো মমি আর অভিশপ্ত সমাধির কাহিনি আজও যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই রহস্যময়। ১৯২২ সালে ফারাও তুতানখামেনের সমাধি খুলেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার। তারপর…

June 25, 2025
1 min read

মিশরের অভিশপ্ত সমাধির ছত্রাকেই মিলছে!

তিন হাজার বছরের পুরনো মমি আর অভিশপ্ত সমাধির কাহিনি আজও যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই রহস্যময়। ১৯২২ সালে ফারাও তুতানখামেনের সমাধি খুলেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার। তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু। কেউ বলেছিলেন অভিশাপ, কেউ সন্দেহ করেছিলেন প্রাচীন অভিজ্ঞান। কিন্তু এক শতাব্দী পেরিয়ে, অবশেষে সেই রহস্যের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা হাজির করলেন ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকেরা।

অভিশাপ নয়, ছড়াচ্ছিল মারণ ছত্রাক

গবেষকদের দাবি, তুতানখামেনের সমাধির অভ্যন্তরে ছিল এক ভয়ংকর ছত্রাক— Aspergillus flavus, যার রেণু এতটাই বিষাক্ত যে শরীরে প্রবেশ করলেই তা ফুসফুস, কিডনি, হৃদ্‌পিণ্ড এমনকি মস্তিষ্ক পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে। ওই সময় প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে কারও নিউমোনিয়া, কারও ক্যানসার, আবার কারও ফুসফুস সংক্রমণে মৃত্যু— এই সবের পেছনে ওই ছত্রাকই দায়ী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিষেই রয়েছে ক্যানসার রোধের চাবিকাঠি?

অবাক করা বিষয় হল, এই মারণ ছত্রাকই এখন হয়ে উঠতে পারে ক্যানসারের ওষুধ! গবেষকরা জানিয়েছেন, Aspergillus flavus ছত্রাক থেকে পাওয়া যায় একটি প্রোটিন— Asperizymicin, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনকে আটকে দিতে সক্ষম। বিশেষ করে রক্তের ক্যানসারের মতো ছড়ানো রোগে, এই প্রোটিন কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এই প্রোটিনটি গবেষণাগারে বিশুদ্ধ করে কেমোথেরাপির বিকল্প ওষুধ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। Nature Chemical Biology জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই বিষাক্ত ছত্রাকই ভবিষ্যতে হতে পারে ক্যানসার চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত।

অভিশপ্ত সমাধি: মিথ না বাস্তব?

তুতানখামেনের সমাধি খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ধনকুবের লর্ড কার্নারভন, যিনি পরে সেপ্টিসেমিয়ায় মারা যান। কার্টারের মৃত্যু হয়েছিল হজকিনস লিম্ফোমায়। তাঁদের সহকারী অনেকের ফুসফুসজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এত দিনের ‘অভিশাপ’-এর তত্ত্ব আজ বাস্তব হয়ে উঠছে এক ছত্রাকের দাপটে।

তবে আশ্চর্যভাবে, এই একই ছত্রাক এখন মানবজাতির জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে চলেছে। বিষের মধ্যেই যে বিষক্ষয়ের পথ লুকিয়ে থাকে— তারই প্রমাণ যেন তুতানখামেনের অভিশপ্ত সমাধির অন্ধকার।

বিজ্ঞানের চোখে নতুন দিশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধ্বংসে বা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষকে দমন করতে এমন প্রোটিন খুবই কার্যকর হতে পারে। তবে এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ভবিষ্যতে ছত্রাক-ভিত্তিক চিকিৎসা ওষুধ ক্যানসারের মতো রোগে বিপ্লব আনবে কি না, তা সময়ই বলবে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ইতিহাসের অন্ধকার গহ্বর থেকে পাওয়া যেতে পারে আধুনিক চিকিৎসার আলো। আর সেই আলোর উৎস হতে পারে একটি ‘অভিশপ্ত’ সমাধির ভিতরে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য ছত্রাক!

“জসপ্রীত, আমাদের তোমাকে দরকার!”— স্ত্রীকে বোঝাতে বললেন গাওস্কর-পুজারা, বুমরার জবাবে মজার টুইস্ট

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *