আসছে ‘খুনি রোবট’!
এক সময় যা ছিল কেবল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়, তা আজ বাস্তবের মুখোমুখি। হলিউডের ‘টার্মিনেটর’-এর মতো আত্মচলিত, স্বয়ংক্রিয় ‘খুনি রোবট’ তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে আধুনিক প্রযুক্তি। আর এই রোবট অস্ত্র শুধু যুদ্ধের ধরনই নয়, মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
কী এই ‘খুনি রোবট’?
আন্তর্জাতিক মহলে এদের বলা হয় Lethal Autonomous Weapon Systems (LAWS)। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এরা পরিচিত ‘কিলার রোবট’ বা ‘খুনি রোবট’ নামে। এই যন্ত্রযোদ্ধারা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের কৃত্রিম মেধা (AI) ব্যবহার করে নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে হামলা চালাতে সক্ষম। একবার মুক্ত করলে, এদের নিয়ন্ত্রণে আর মানুষের হাত থাকে না।
কারা করছে এই গবেষণা?
এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থা:
- মার্কিন সংস্থা অ্যান্ডুরিল (Anduril) ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে ‘ফিউরি’ ও ‘রোডরানার’ নামের রোবট যুদ্ধবিমান।
- ‘ফিউরি’ : পুরোপুরি AI-চালিত, কোনও পাইলট নেই।
- ‘রোডরানার’ : একাধিকবার নিশানা নিয়ে হামলা করতে সক্ষম।
- এই সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে মার্কিন সেনা।
- ভারতের BSS (Bharat Supply & Support) ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে AI-চালিত মেশিনগান।
- রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইজরায়েল এবং ব্রিটেন-ও গোপনে চলছে এই গবেষণা।
কেন উদ্বিগ্ন বিশ্ব?
এই রোবটগুলো সম্পূর্ণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ঠিক কোন টার্গেট ধ্বংস করতে হবে, তা নির্দিষ্টভাবে বোঝানো কঠিন। একটি ‘সাধারণ নির্দেশনা’তে AI যদি ভুল বুঝে নেয়, তা হলে গণহত্যার আশঙ্কা অমূলক নয়।
- রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরস্ত্রীকরণ দফতরের প্রধান ইজুমি নাকামিৎসু স্পষ্টই বলেছেন, “মানুষ হত্যার সিদ্ধান্ত যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া ঘৃণ্য এবং অমানবিক। এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করা উচিত।”
- Human Rights Watch-এর প্রতিনিধিও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- এমনকি ইলন মাস্ক-ও ২০১৭ সালে ১১৬ জন AI বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রপুঞ্জকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন, এই প্রযুক্তি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।
তবে কি সবই কালো চিত্র?
না, প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি দাবি করছে, এই রোবটগুলিতে ‘কিল সুইচ’ যুক্ত করা আছে। অর্থাৎ যদি রোবট কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে এই সুইচ ব্যবহার করে তাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া সম্ভব।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এমন অবস্থায় যদি সেই ‘কিল সুইচ’-এ পৌঁছনোই না যায়?
ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কেমন হবে?
বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং গবেষণা এই রোবট অস্ত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এটি স্পষ্ট, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে মানুষ বনাম যন্ত্র, এবং সেই যন্ত্র নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। হয়তো একদিন মানুষকেই ভাবতে হবে— যুদ্ধ করছি তো বটে, কিন্তু কার বিরুদ্ধে?
“জসপ্রীত, আমাদের তোমাকে দরকার!”— স্ত্রীকে বোঝাতে বললেন গাওস্কর-পুজারা, বুমরার জবাবে মজার টুইস্ট