মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজে সাঁতার কাটবে এআইচালিত রোবট কচ্ছপ!
প্লাস্টিক এখন শুধু রাস্তা বা সমুদ্রে ভেসে থাকা আবর্জনা নয়। তার সূক্ষ্ম কণা— মাইক্রোপ্লাস্টিক— ঢুকে পড়েছে খাবার, প্রসাধনী, এমনকি পানীয় জলেও। আর সেই অদৃশ্য দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ বার জলে নামছে এক অভিনব প্রযুক্তি— এআইচালিত রোবট কচ্ছপ।
কানাডার ১৬ বছরের কিশোর ইভান বাজ় এমন একটি রোবট তৈরি করেছে, যা জলে সাঁতার কেটে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করতে এবং তা সংগ্রহ করতে পারবে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রয়োগ ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের নজর কেড়েছে।
প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এর অনেকটাই খালি চোখে দেখা যায় না। নদী, পুকুর, হ্রদ বা সমুদ্রে ভেঙে ভেঙে প্লাস্টিকের কণা এত ছোট হয়ে যায় যে সেগুলি সাধারণ শোধন প্রক্রিয়াতেও পুরোপুরি আটকানো সম্ভব হয় না। সেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের শরীরে ঢুকে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরেও পৌঁছে যাচ্ছে।
ইভানের কথায়, জল থেকে এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক আলাদা করার কার্যকর প্রযুক্তি এখনও খুব সীমিত। সেই কারণেই সে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় রোবট তৈরির চেষ্টা করেছে, যা দীর্ঘ সময় জলে থেকে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
রোবটটির আকৃতি কচ্ছপের মতো। কারণ কচ্ছপের গঠন জলে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল ভাবে চলাচলের জন্য উপযোগী। এতে রয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা, সেন্সর এবং এআইভিত্তিক সফটওয়্যার। এই প্রযুক্তি জলের বিভিন্ন অংশ বিশ্লেষণ করে কোথায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বেশি, তা শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকায় প্লাস্টিক কণা সংগ্রহ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম দিকে পরীক্ষার সময় রোবটটি বার বার ডুবে যাচ্ছিল। সুইমিং পুলে একাধিক ব্যর্থ পরীক্ষার পর ধীরে ধীরে এর ভারসাম্য, ভাসমান ক্ষমতা এবং চলাচলের পদ্ধতি উন্নত করা হয়। বহু পরিবর্তনের পরে সেটি স্বাভাবিক ভাবে সাঁতার কাটতে সক্ষম হয়।
ইভানের মতে, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু প্লাস্টিক পরিষ্কার করা নয়। কোন অঞ্চলের জল কতটা দূষিত, কোথায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে, সেই তথ্যও দ্রুত পাওয়া যাবে। ফলে পরিবেশবিদ ও প্রশাসন আগেভাগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
রোবট কচ্ছপের বর্তমান সংস্করণ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন বহু রোবট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে নদী, হ্রদ বা উপকূলবর্তী এলাকায় একসঙ্গে একাধিক রোবট কাজ করে জল দূষণ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অদৃশ্য দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাই ১৬ বছরের এক কিশোরের উদ্ভাবন ভবিষ্যতের পরিবেশরক্ষার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?