যুদ্ধের মুখে আমেরিকা?
ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষ ক্রমেই ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। এমন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে গুঞ্জন— তাহলে কি আমেরিকা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চলেছে? মঙ্গলবার ট্রাম্পের কণ্ঠে যেমন ছিল হুঁশিয়ারি, তেমনই ছিল এক চরম বার্তা: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই যেন ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করেন, না হলে ফল ভয়াবহ হবে।
🔍 ট্রাম্পের বার্তা: “জানি কোথায় লুকিয়ে আছেন খামেনেই”
ট্রাম্প বলেন, “আমরা জানি তথাকথিত সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন। তিনি একটি সহজ লক্ষ্য, কিন্তু আপাতত আমরা তাঁকে বার করে আনছি না।” তাঁর এই ‘আমরা’ বলার ধরন এবং সময়চয়ন থেকেই জল্পনা— তিনি কি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সম্মিলিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধ এবং আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।
🇮🇷 ইরানের পাল্টা বার্তা: “যুদ্ধ শুরু!”
ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ’ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের প্ল্যাটফর্মে খামেনেই লিখেছেন, “যুদ্ধ শুরু হয়েছে।” যদিও কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তা খোলসা করেননি। তবে তিনি ইজ়রায়েলকে ‘সন্ত্রাসী ইহুদি সরকার’ বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “আমরা কোনও ইহুদিবাদীর প্রতি দয়া দেখাব না।”
🕊️ যুদ্ধ না শান্তি?
ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন, তিনি শান্তি চান। অথচ একই সঙ্গে ইরানকে একের পর এক হুমকিতে ভয় পাইয়ে চলেছেন। ইজ়রায়েলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি এখন আর গোপন নয়। এমনকি মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনালাপও হয়েছে, যার পরই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, আমেরিকা যেন ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ‘ফর্দো’-তে বিমান হামলা চালায়। কারণ ইজ়রায়েলের হাতে এই ধরনের মিশনের উপযুক্ত যুদ্ধবিমান নেই। ট্রাম্পের প্রশাসন কী করবে, তা এখন দেখার।
💣 যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান?
‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরান নাকি ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছে। অর্থাৎ, যদি আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে নামে, তাহলে আঘাতের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান।
🛑 পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ
অবস্থার আরও জটিল দিক হলো, এই যুদ্ধের আবহেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনাও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনও আলোচনা চায় না।
উপসংহার:
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম স্তরে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্য, ইজ়রায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি যেকোনও মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ভোটের আগে বিরল লড়াই: মতুয়া ভোটের দখল নিতে মাঠে বিজেপি-তৃণমূল, সরব ঠাকুরবাড়িও
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি