কেদারনাথ কপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার রাজবীর!
মাত্র দু’মাস আগে যমজ সন্তানের বাবা হয়েছেন রাজবীর সিংহ চৌহান। বাবা হওয়ার আনন্দ সেভাবে উপভোগ করার আগেই জীবন থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। রবিবার কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশী যাওয়ার পথে ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং হেলিকপ্টার পাইলট ক্যাপ্টেন রাজবীর। শোকস্তব্ধ পরিবার, স্তব্ধ গোটা সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার পরিষেবা মহল।
রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা রাজবীর ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল। সেনায় তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর কাজ করেছেন। হেলিকপ্টার চালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল অসামান্য। ২০০৯ সালে বায়ুসেনায় যোগ দিয়ে পাহাড়, জঙ্গল এবং সমতলের জটিল অবস্থানেও দক্ষতার সঙ্গে হেলিকপ্টার ওড়াতেন তিনি। অবসরের পর ২০২৪ সাল থেকে কেদারনাথে বেসরকারি সংস্থার হেলিকপ্টার পরিষেবায় যুক্ত হন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
রবিবার ভোর ৫টা। পবিত্র কেদারনাথ থেকে বেল ৪০৭ মডেলের হেলিকপ্টারে পাঁচজন তীর্থযাত্রীকে নিয়ে গুপ্তকাশীর উদ্দেশে রওনা দেন রাজবীর। উড্ডয়নের মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই হেলিকপ্টারের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, হেলিকপ্টারটি গৌরীকুণ্ড সংলগ্ন ঘন জঙ্গলে ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর উদ্ধারকারী দল দেখতে পায়, বিমানের ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে আছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। পাইলট-সহ সব সাত আরোহীরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
ব্যক্তিগত জীবনেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
দুই মাস আগে রাজবীরের পরিবারে এসেছিল দু’টি নতুন প্রাণ। যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী, যিনি নিজেও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সদ্যোজাত সন্তানদের রেখে কর্তব্যে ফিরে এসেছিলেন রাজবীর, কারণ কেদারনাথের মতো দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব মানেই চূড়ান্ত সতর্কতা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা। হেলিকপ্টার চালানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও, রাজবীর শেষপর্যন্ত প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য প্রতিক্রিয়ায় হার মানলেন।
কেরিয়ারের উজ্জ্বল ছাপ
রাজবীর ২০০৭ সালে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন। এরপর দ্রুতই তিনি পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়ুসেনায় যোগ দেন। কর্মজীবনে ২০০০ ঘণ্টার বেশি হেলিকপ্টার ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর ঝুলিতে। গত বছরের অক্টোবর থেকে তিনি নিরবিচারে কেদারনাথ-গুপ্তকাশী রুটে বেল ৪০৭ হেলিকপ্টার পরিচালনা করছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা বলছেন, ‘‘রাজবীর ছিলেন নির্ভরযোগ্য, শান্ত এবং অভিজ্ঞ। এই দুর্ঘটনা অকস্মাৎ এক শূন্যতা তৈরি করল।’’
দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে
উত্তরাখণ্ড পুলিশের আইজি (আইনশৃঙ্খলা) নীলেশ ভার্নে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কপ্টারটি অতিরিক্ত ভার বহন করছিল কি না, আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপত্তি ঘটেছে কি না—তা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে চারধাম রুটে নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ গত ছয় সপ্তাহে এই অঞ্চলে পাঁচটি কপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজবীরের জীবন প্রদীপ এমন এক সময়ে নিভে গেল, যখন জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। তাঁর বলিষ্ঠ কর্তব্যবোধ আর সাহসিকতা আজও প্রেরণা হয়ে থাকল অসংখ্য পাইলট ও সেনাকর্মীর কাছে।
ভারতে আসছে স্যামসাং Galaxy S25 সিরিজের One UI 8 বিটা ভার্সন! কী কী থাকছে এই আপডেটে?