কল্পনার জগতে বাঁচতে চান পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল
ছোটদের জগতে, কল্পনার দুনিয়ায় তিনি বরাবরই স্বচ্ছন্দ। কখনও খাবার দিয়ে গল্প বলেন, কখনও পক্ষীরাজ ঘোড়ার ডিম খুঁজতে পাঠান শিশু চরিত্রদের। পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল আবার ফিরেছেন তাঁর প্রিয় ঘরানায়— রূপকথা ও শিশু-কেন্দ্রিক কল্পগল্প। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ মুক্তির মুখে দাঁড়িয়ে আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে উঠে এল তাঁর ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা।
ছোটদের সঙ্গে বন্ধুত্বটাই বড় সঞ্চয়
‘রেনবো জেলি’ বানিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। দীর্ঘ সাত বছর পর ফিরেছেন ‘পক্ষীরাজের ডিম’ নিয়ে। ছোটদের অভিনেত্রী অনুমেঘা আর মহাব্রত সেই সময় শিশুশিল্পী ছিলেন, এখন কৈশোরের দোরগোড়ায়। সৌকর্যের কথায়, “সেই বদলটাই গল্পে ধরতে চেয়েছি।” শিশুরা যে কল্পনার দুনিয়া ভালোবাসে, তা নিয়েও তাঁর দ্বিধা নেই। উল্টে দাবি, “ফ্যান্টাসি না ভালোবাসলে মার্ভেল, পেপাপিগ এই প্রজন্মের এত প্রিয় হত না!”
কল্পনার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ‘তারকাবিমুখ’তা
সৌকর্য নিজে সত্যজিৎ রায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, লীলা মজুমদারের লেখা পড়ে বড় হয়েছেন। তাই রূপকথার গল্প তাঁর রক্তে। নিজের ছবির চরিত্রগুলো নিজেই আঁকেন তিনি। সেই আঁকাই হয়ে ওঠে সিনেমার ভিত্তি। “আমি অলঙ্করণশিল্পী ছিলাম, তাই চরিত্র আঁকাই আমার প্রথম ভাষা,” বলেন পরিচালক।
তারকাবিমুখতা নিয়েও তাঁর স্পষ্ট মত— “আমি গল্পকে প্রাধান্য দিই। গল্পের দাবি অনুযায়ী অভিনয়শিল্পী বাছি। কোয়েল মল্লিক বা জয়া আহসানকে নিয়েও কাজ করেছি। তবে শিশু চরিত্র ছাড়া আমার সিনেমা অসম্পূর্ণ।”
সিনেমার বদলে যাওয়া রীতি নিয়ে ক্ষোভ
সিনেমা এখন স্টুডিয়োভিত্তিক হয়ে উঠেছে, এই বিষয়টি নিয়ে সৌকর্যর অসন্তোষ স্পষ্ট। আগেকার পরিচালকরা যেভাবে গল্পের প্রতিটি খুঁটিনাটি গড়ে তুলতেন, এখন সেই চর্চা কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে এই সমস্যাটা আছে। সিনেমা যেন এখন শুধু প্রডাকশন আর মার্কেটিংয়ের খাঁচায় বন্দি।”
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
সৌকর্য মনে করেন, আগামী প্রজন্ম প্রযুক্তিকে শুধু হাতিয়ার নয়, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিচ্ছে। “তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে না, আত্মসমর্পণ করছে,” বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাই ছোটদের জন্য ছবি বানানো তাঁর কাছে দায়িত্বের মতো।
‘পক্ষীরাজের ডিম’-এ কি রূপকথার বাস্তবের ছোঁয়া?
পরিচালক জানিয়েছেন, “ঘোড়ার ডিম মানে যাকে অবাস্তব ধরা হয়, সেই জিনিসটাই যদি কল্পনার রূপ পায়, সেটাই পক্ষীরাজের ডিম। যারা কল্পনা করতে জানে, তারা বুঝবে।” আর এই ব্যাখ্যাতেই লুকিয়ে আছে তাঁর সিনেমার মূল দর্শন— যা চোখে দেখা যায় না, তাই সবচেয়ে মূল্যবান।
পরিচালক হিসেবে নিজেকে সত্যজিৎ রায়ের অনুসরণকারী হিসেবে দেখেন, অনুকরণকারী হিসেবে নয়। তাঁর কথায়, “ওঁর কাছাকাছি যেতেও অনেক আলো বছর দূরে। আমি শুধু চেষ্টা করি, তাঁর দেখানো পথ মেনে সিনেমা নির্মাণে যতটা নিখুঁত হওয়া যায়।”
এই কল্পবিজ্ঞান আর কল্পনার মিশেলে বানানো সৌকর্যর সিনেমাগুলিকে আপনি এক কথায় বর্ণনা করলে বলতে পারেন— “রূপকথার পর্দা, বাস্তবের ছায়া”।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন