অনির্বাণের চোখে অবসাদ, সমাজ, আর ছোটদের পৃথিবী!
চলচ্চিত্রে বা মঞ্চে তিনি যতটা গভীর, বাস্তব জীবনে অনির্বাণ ভট্টাচার্য ততটাই সংবেদনশীল এবং আত্মবিশ্লেষী। সৌকর্য ঘোষালের ছোটদের ছবি ‘পক্ষীরাজের ডিম’ মুক্তির আগে, জীবনের নানা দিক নিয়ে অকপটে কথা বললেন এই প্রথম সারির অভিনেতা।
কাজই তাঁর কাউন্সেলিং
“মন খারাপ হয়েছে মানেই থেমে যেতে হবে—এই ধারণায় আমি বিশ্বাস করি না,” জানালেন অনির্বাণ। তিনি বলেন, “অবসাদ আমার চালিকাশক্তি। আমি পালিয়ে যাই না, বরং তার সঙ্গেই কাজ করি। আমি বুঝেছি, আমার কাজই আমার ওষুধ। একবার মনোবিদের কাছে গিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু লাভ হয়নি। আমি যে কাজ করে আনন্দ পাই, সেটাই আমাকে টেনে রাখে।”
তবে সকলের ক্ষেত্রেই এমনটা হয় না, সে কথাও স্পষ্ট করে বলেন তিনি। কারও সমস্যা গভীর হলে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া জরুরি—এই বার্তাও দেন তিনি। “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শহরগুলোতে সচেতনতা বাড়লেও মফস্বলে এখনো অনেক সংকোচ আছে,” বলেন অনির্বাণ।
সমাজ, চাপ এবং আত্মকেন্দ্রিকতা
জীবনের চাপ নিয়ে প্রশ্ন করলে অনির্বাণ বলেন, “চাহিদা বাড়লে চাপও বাড়বে, এটা খুব স্বাভাবিক। আগেকার দিনে মানুষের চাহিদা কম ছিল, তাই চাপও কম ছিল।” তিনি বিশ্বাস করেন, চাপ থেকে মুক্তির বাসনা নিজেই একটা ফাঁকি। “চাপ না থাকলে আমি এত দূর আসতাম না,” বলেন তিনি।
‘তারকা’ নয়, সহশিল্পী
ছবিতে শিশুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, “ওরা আমার সহকর্মী। ফ্লোরে আমি, ওরা—সকলেই অভিনেতা। ছোট বা বড় বলে কিছু নেই।” ‘পক্ষীরাজের ডিম’ ছবিতে দুই কিশোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহাব্রত বসু ও অনুমেঘা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের সঙ্গেও অনির্বাণের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
সমাজমাধ্যমের ভার্চুয়াল দানব
“আমি নিজে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি না। কিন্তু তথ্য তো ফোনের পর্দা পেরিয়েই ঢুকে পড়ে,” অনির্বাণ বলেন। তাঁর মতে, আজকের সমাজমাধ্যম একপ্রকার ভার্চুয়াল গণহত্যা, যা মানুষের ভাল থাকা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। “তথাকথিত প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে মানুষের কোনও গুরুত্বই নেই,”—এই মন্তব্য যেন তারকার চেয়েও এক প্রাজ্ঞ চিন্তকের কণ্ঠস্বর।
শিশুদের বিশ্ব আর প্রযুক্তির ফাঁদ
মেদিনীপুরের শান্ত গ্রামে কেটেছে অনির্বাণের শৈশব। সেই অভিজ্ঞতা আজকের প্রযুক্তি-নির্ভর শহুরে শিশুদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “ভারতের মতো দেশে প্রযুক্তির প্রভাবে শিশুরা অনেক সহজে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।” তাই শিশুদের জন্য আরও মানবিক, গভীর চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।
ব্যস্ততার ফাঁকে ছুটি মানেই ঘর
ছুটির দিনে নতুন পর্দা টাঙানো, চা-কফি পান বা সাইকেলে ঘুরে বেড়ানোতেই তাঁর আনন্দ। “এখনও বাইকে চেপে বেরিয়ে পড়ি আশেপাশে, যেমনটা ছোটবেলায় করতাম,” বলেন তিনি। বই পড়া, গান শোনা, ইউটিউব ঘেঁটে নতুন জ্ঞান আহরণ—সবই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
আরও একবার ১৮ বছর বয়সে ফিরলে?
এই প্রশ্নে চেনা হাসি ফুটে ওঠে তাঁর মুখে। “বোধ হয় বলতাম—‘ভেবেচিন্তে কিছু করিস, কারণ বাংলা নাটক-সিনেমা করাটা কোনও মজা নয়, ওটা চাপ!’”—বলেই হেসে ফেলেন অনির্বাণ।
পশ্চিমবঙ্গের পহেলগাঁও: পুরুলিয়ার টুরগা উপত্যকার সবুজ মোহে মুগ্ধ দেশ, আপনি যাবেন কবে?