‘বিদেশি শত্রু’ নয়, নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ট্রাম্প! লস অ্যাঞ্জেলসে সেনা মোতায়েন, জারি কড়া কার্ফু

লস অ্যাঞ্জেলসে সেনা মোতায়েন, জারি কড়া কার্ফু! লস অ্যাঞ্জেলেস যেন এখন যুদ্ধক্ষেত্র! টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট, ভাঙচুর আর আগুনজ্বালার মধ্যেই আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিকে ‘বিদেশি শত্রুদের…

June 11, 2025
1 min read

লস অ্যাঞ্জেলসে সেনা মোতায়েন, জারি কড়া কার্ফু!

লস অ্যাঞ্জেলেস যেন এখন যুদ্ধক্ষেত্র! টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট, ভাঙচুর আর আগুনজ্বালার মধ্যেই আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিকে ‘বিদেশি শত্রুদের কবল’ থেকে মুক্ত করার সংকল্পে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই অস্থিরতার পিছনে রয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, এবং সেই ষড়যন্ত্রের রাশ টানতেই সেনা নামানো ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না।

বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে শহরকে রক্ষা করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪০০০ ন্যাশনাল গার্ড। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জারি রাখা হয়েছে কার্ফু। সেনাবাহিনী, মেরিনবাহিনী এমনকি ফেডারেল ফোর্সও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে। কিন্তু এই কঠোর পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

ক্যালিফর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই সেনা নামিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের সীমারেখা লঙ্ঘন করে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। পরিস্থিতির চাপ এতটাই তীব্র যে, সেনা মোতায়েন ঘিরে আদালতে মামলাও ঠাঁই পেয়েছে।

তবে ট্রাম্প কোনওভাবেই পিছু হটতে নারাজ। উত্তর ক্যারোলাইনার এক সেনাছাউনিতে গিয়ে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘এই দিন দেখার জন্য আমাদের সেনারা রক্ত দিয়েছে বিদেশের মাটিতে। দেশের মাটিতে, দেশের পতাকা নীচে এই বিশৃঙ্খলা সহ্য করা যাবে না।’’ তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ‘বিদেশি পতাকা’ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করছেন।

অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ যে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত করেছে, সে কথা স্বীকার করছে প্রশাসনও। কিন্তু এর জেরে আইনশৃঙ্খলা যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা সামাল দিতে সেনা মোতায়েনই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, সেনারা শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীকে রক্ষা করছে না, তারা গণতন্ত্রকেও রক্ষা করছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ’-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সুর চড়াচ্ছে ক্যালিফর্নিয়া। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সেনা মোতায়েন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাত নয়, বরং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নিজের ‘দৃঢ় নেতৃত্ব’-এর ছবি তুলে ধরার কৌশল। এদিকে, শহরের মানুষ রয়ে গিয়েছেন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মাঝে।

এভাবেই, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ আন্দোলন এক চরম নিরাপত্তা সঙ্কটের রূপ নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন একজন অনড় প্রেসিডেন্ট, যিনি প্রয়োজনে আবারও সেনা নামাতে দ্বিধা করবেন না—দেশ বাঁচাতে, কিংবা নিজের অবস্থান।

পশ্চিমবঙ্গের পহেলগাঁও: পুরুলিয়ার টুরগা উপত্যকার সবুজ মোহে মুগ্ধ দেশ, আপনি যাবেন কবে?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *