আত্মসমর্পণে মোড় ঘোরাল সোনম!
মেঘালয়ের নিঃশব্দ পাহাড় ঘেরা সৌন্দর্য যেখানে নবদম্পতিদের ভালবাসার ঠিকানা হয়ে উঠেছে, সেখানেই ঘটল এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মধ্যপ্রদেশের ইনদওর থেকে সদ্য বিবাহিত দম্পতি রাজা রঘুবংশী এবং সোনম রঘুবংশী মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন মেঘালয়ে। ২৩ মে শিলং থেকে সোহরা যাওয়ার পথে তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান। হঠাৎ করেই ১১ দিন পর সেখানকার খাদে উদ্ধার হয় রাজার রক্তাক্ত মৃতদেহ, পাশে পড়ে ছিল দা আর বর্ষাতি। তখন থেকেই খোঁজ মিলছিল না স্ত্রী সোনমের। পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশ ভেবেছিলেন, হয়তো তিনিও কোনও অপরাধের শিকার। সন্দেহ গড়িয়েছিল বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত। শেষমেশ সব জল্পনায় ইতি টেনে নাটকীয় মোড় নেয় গোটা কাণ্ড।
১৬ দিন পর হঠাৎ করেই উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের নন্দগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেন সোনম। সঙ্গে সঙ্গে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা তদন্তজুড়ে। পুলিশের ধারণা, শুধু নিখোঁজ নন, সোনম স্বামী রাজার হত্যার মূলচক্রী হতে পারেন। আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও তিন জনকে—এক জন উত্তরপ্রদেশ থেকে, বাকিদের ইনদওর থেকে পাকড়াও করেছে মেঘালয় পুলিশের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন এই চার জনের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যার মূল পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্মরণযোগ্য যে, রাজা ও সোনমের বিয়ে হয়েছিল ১৯ মে, তার পরের দিনই তাঁরা বেরিয়ে পড়েন মেঘালয়ের পথে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ মে দুপুর সওয়া ১টায় সোনম আত্মীয়দের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলেন। তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্ত চলাকালীন সন্দেহ করা হচ্ছিল, সোনম হয়তো অপহরণ হয়েছিলেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করছিলেন, তাঁকে বাংলাদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছিল মেঘালয় পুলিশের তরফে। কিন্তু কোনো হদিস মেলেনি।
শেষপর্যন্ত, সেই সোনমই যখন নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন, তখন গোটা তদন্তের গতিপথ বদলে যায়। মেঘালয় পুলিশের ডিজি ইদাশিশা নোংরাং তাঁর আত্মসমর্পণের খবর নিশ্চিত করেন। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান সমাজমাধ্যমে। এই আত্মসমর্পণ যেন এক ধাক্কায় গোটা রহস্যকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
বর্তমানে সোনম এবং ধৃত অন্যদের জেরা করে পুলিশ হত্যার কারণ ও পরিকল্পনার গভীরে পৌঁছতে চায়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক লেনদেন, কিংবা অন্য কোনও গোপন কারণ এই অপরাধের পেছনে রয়েছে কি না, তা এখন মূল প্রশ্ন। মেঘালয়ের পাহাড়ে শুরু হওয়া এক রোমান্টিক সফর যে এমন এক হিংস্র মোড় নেবে, তা কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল? এখন গোটা দেশ তাকিয়ে রয়েছে তদন্তের পরবর্তী পর্বের দিকে। সত্যি কি সোনম-ই স্বামীকে খুন করেছেন, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল ষড়যন্ত্র—উত্তর সময়ই দেবে।
টাটকা লাউ কিনবেন কীভাবে? চেনুন কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো সব্জি