অবনীত কৌরের ভিডিয়ো ঘিরে প্রতিবাদে মুখর সহ-অভিনেতা সুয়্যাশ রাই!
বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ অবনীত কৌর। গ্ল্যামার আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এই অভিনেত্রী যেখানেই যান, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন তাঁকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে। তবে সম্প্রতি এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তোলা একটি ভিডিয়ো তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলেছে একেবারেই অন্য এক কারণে।
মুম্বইয়ের লাল গালিচায় কমলা রঙের বডিকন ড্রেসে উপস্থিত হয়েছিলেন অবনীত। প্রতিটি স্টেপে যেন আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছিল তাঁর হাঁটার ভঙ্গিমা ও চোখের চাহনিতে। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইনস্টাগ্রামে। তবে বিতর্ক বাধে ক্যামেরার লেন্স যেখানে গিয়ে স্থির হয় সেখানে। সেই ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা যায়, কোনও একটি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা সরাসরি অবনীতের বক্ষবিভাজিকায় জুম করেছে, তার পর মুখের দিকে ফোকাস সরানো হয়। শুধুই স্টাইল বা গ্ল্যামারের চিত্রধারণ নয়, এই ভিডিয়ো যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক অসভ্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছে।
ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়া ক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রশ্ন উঠতে থাকে—এই কেমন সাংবাদিকতা? এই কেমন ক্যামেরার ব্যবহার? অভিনেত্রীর সৌন্দর্যকে উদযাপন না করে, সেটিকে খণ্ডিত করে উপস্থাপন করাটাই কি এখনকার মানদণ্ড?
এই ঘটনার পর মুখ খুললেন অবনীতের সহ-অভিনেতা সুয়্যাশ রাই। প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “আপনাদের একটুও লজ্জা নেই? হ্যাঁ, অবনীত সত্যিই চমৎকার দেখতে লাগছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনারা শুধু বক্ষবিভাজিকায় জুম করবেন! ভাবুন তো, আপনাদের পরিবারের কোনও মহিলা যদি এ ভাবে উপস্থাপিত হন, তবে কেমন লাগবে?” সুয়্যাশের মন্তব্যেই ধরা পড়েছে, এই প্রতিবাদ শুধু একজন সহ-অভিনেতার নয়, একজন সচেতন শিল্পীর, যে শালীনতার সীমারেখা বোঝে।
এই বিতর্কের মাঝেই অবনীত কৌর নিজের পেশাদার যাত্রায় এগিয়ে চলেছেন দুর্দান্ত গতিতে। সম্প্রতি টম ক্রুজের সঙ্গে ‘মিশন ইমপসিবল—দ্য ফাইনাল রেকনিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছেন তিনি। টমের সঙ্গে কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আপনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি। প্রত্যেক বার দেখা হলে অনুপ্রেরণা পাই। আবার দেখা হবে শীঘ্রই, আশা করছি।”
এই দুই ঘটনা যেন দুই পৃথিবীর গল্প বলে। এক দিকে নারীর সৌন্দর্যকে উপভোগ নয়, ভোগ্য বস্তুর চোখে দেখা হচ্ছে; অন্য দিকে, এক নারী তাঁর প্রতিভা ও অধ্যবসায় দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। এই দুই চিত্র আজকের সমাজ ও মিডিয়ার বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন থাকছেই—আমরা কোন দিকটা বেছে নেব?
মুম্বইয়ের বৃষ্টিতে ভিজে দীপিকার প্রথম প্রেম: মুজ্জামিল ইব্রাহিমের উজাড় স্মৃতির কথা