‘মাস্ক চাইলে রাশিয়ায় আশ্রয় পাবে’— ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে রুশ পার্লামেন্ট সদস্যের বিস্ফোরক মন্তব্য

ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে রুশ পার্লামেন্ট সদস্যের বিস্ফোরক মন্তব্য! আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন টানটান উত্তেজনায় মোড়া। ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই মাস্ক তাঁর…

June 7, 2025
1 min read

ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে রুশ পার্লামেন্ট সদস্যের বিস্ফোরক মন্তব্য!

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন টানটান উত্তেজনায় মোড়া। ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই মাস্ক তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করে চলেছেন। পাল্টা ট্রাম্পও ছাড়ছেন না, রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের মালিককে। এই সংঘাতের আবহে এক বিস্ময়কর মন্তব্য করে বসলেন রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক স্টেট ডুমা কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি নভিকভ। তাঁর সাফ কথা, ইলন মাস্ক যদি রাজনৈতিক কারণে আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হন, তাহলে রাশিয়া তাঁকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত!

যদিও এই বিষয়ে রুশ সরকারের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, “এটা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। আমরা এতে কোনও ভূমিকা নিতে চাই না। আশা করি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিজের মতো করে বিষয়টি সামলে নেবেন।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ইঙ্গিত।

রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘তাস’ যখন নভিকভকে মাস্ক-ট্রাম্প দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন করে, তিনি বলেন, “আমি মনে করি মাস্ক একদম ভিন্ন একটি কৌশলে চলেছেন। তাঁর হয়তো রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি হয়, রাশিয়া তাঁকে আশ্রয় দিতে অবশ্যই প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে মাস্কের নানা স্তরের মতানৈক্য ছিল। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত বিরোধকে আলাদা করে রাখাই শ্রেয়। মাস্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলেছেন, যা তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।”

মাস্ককে রাশিয়া আশ্রয় দেবে—এই প্রসঙ্গ কেনই বা এত হঠাৎ উঠে এল? কারণ খোদ আমেরিকারই এক প্রাক্তন হোয়াইট হাউস কর্তা, স্টিভ ব্যানন, প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে মাস্ককে আমেরিকা থেকে তাড়ানো উচিত। শুধু তাই নয়, তাঁর মতে মার্কিন সরকার স্পেসএক্স সংস্থাটিকেই অধিগ্রহণ করা উচিত। ব্যাননের দাবি, মাস্ক আমেরিকায় ‘অবৈধ’ভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।

এই অবস্থায়, বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনার গুরুত্ব বাড়ছে। একদিকে আমেরিকার অন্দরমহলে মাস্কের অবস্থান প্রশ্নের মুখে, অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়ে দিল—প্রয়োজনে তাঁরা মাস্ককে আশ্রয় দিতে তৈরি। যদিও মাস্ক নিজে এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি, তবে বিষয়টি যে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন মাত্রা তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ধনকুবেরকে ঘিরে যদি রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কূটনীতির নানা স্তরেও। এখন দেখার, মাস্ক কী করেন—তিনি কি সত্যিই একদিন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেবেন, না কি এটি শুধুই রাজনীতির ছায়াযুদ্ধ?

মুম্বইয়ের বৃষ্টিতে ভিজে দীপিকার প্রথম প্রেম: মুজ্জামিল ইব্রাহিমের উজাড় স্মৃতির কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *