সৃজিতের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’!
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরবর্তী ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ নিয়ে ঢালাই-ঢালাই চমক দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তকে এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। আনন্দবাজার ডট কমের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, যিশুর চরিত্র নিত্যানন্দ প্রভু — যিনি ‘নিতাই’ নামেও পরিচিত, শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সঙ্গী এবং গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপক।
যিশুর সঙ্গে সৃজিতের সংযুক্তি দুই বছরের বিরতি ভেঙে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। এর আগে ছোট পর্দায় ‘মহাপ্রভু’ চরিত্রে যিশুর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে গিয়েছিল। সেই সময় থেকেই দর্শক তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। এবার প্রায় তিন দশক পর সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আবারো একটি মহাপ্রভু যুগের গল্পে যিশুকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যাবে, যা তার কর্মজীবনে বিশেষ স্থান অধিকার করবে বলেই ধারণা করেই দর্শকরা উন্মুখ।
ছবিতে যিশুর লুক ও চরিত্রের সেটিং ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। দর্শকরা যিশুর নতুন রূপ দেখতে আগ্রহী। যিশু বর্তমানে লন্ডন থেকে ফিরেই ছবির ফাইনাল লুক শুটিং শুরু করবেন। ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোতেও চমক রয়েছে। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, ব্রাত্য বসু, ইশা সাহা সহ অনেকেই রয়েছেন। গিরিশ ঘোষের ভূমিকায় দেখা যাবে ব্রাত্য বসুকে। এছাড়া শ্রীচৈতন্যদেবের চরিত্রে অভিনয় করবেন দিব্যজ্যোতি দত্ত এবং লক্ষ্মীপ্রিয়ার ভূমিকায় আছেন আরাত্রিকা মাইতি।
এর আগে ছবির চরিত্রায়নে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিনোদিনী থেকে লক্ষ্মীপ্রিয়ার চরিত্রে নানা রকম পরিবর্তন ঘটেছে। দোলপূর্ণিমার দিন এই ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায় নিজেই। ছবির প্রযোজনায় রানা সরকার ও এসভিএফ থাকবেন।
‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, এটি শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জীবনী ও শিষ্যত্বের ঐতিহাসিক কাহিনী নিয়ে তৈরি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এতে রয়েছে আবেগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যের এক অনবদ্য সমাহার। তাই সৃজিতের হাতে এই মহাকাব্যিক গল্প সাজানোর জন্য সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় দুই অভিনেতাকে—যিশু সেনগুপ্ত ও দিব্যজ্যোতি দত্তকে প্রথমবার বড় পর্দায় একই ছবিতে একসঙ্গে দেখার প্রতীক্ষাও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সৃজিতের ছবির ফাইনাল লুক সেটের প্রতিটি শট দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। ইতিহাস ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে তৈরি এই সিনেমাটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে—এটাই প্রত্যাশা। যিশুর চরিত্র ‘নিত্যানন্দ প্রভু’র মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য আরও গভীর হবে বলে বিশ্বাস করেই দর্শকরা অপেক্ষায় আছেন।
এই ছবিতে যিশুর সংযোজন সত্যিই ‘চূড়ান্ত লগ্নে চমক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এ বারের সিনেমা যিশুর অভিনয়ের নতুন মাত্রা ও সৃজিতের পরিচালনায় বাংলা চলচ্চিত্রে এক বিশেষ স্থান তৈরি করবে, তাতে সন্দেহ নেই।