শি-কন্যাকে বিতাড়নের ডাক
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়াঘেরা ক্যাম্পাসে তিনি নীরবে ঘোরেন, তাঁর পরিচয় রাখেন গোপন। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কন্যা শি মিংজ়ে। কিন্তু এবার আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে এল তাঁর নাম। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং কট্টরপন্থী রাজনীতিক লরা লুমার দাবি তুলেছেন—মিংজ়েকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে। তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক, যার ঢেউ আছড়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও।
লুমারের বিস্ফোরক দাবি
সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লুমার দাবি করেন, “চিনের প্রেসিডেন্টের কন্যাকে আমাদের দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এখনই তাঁকে দেশছাড়া করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, মিংজ়ে হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছেন এবং ম্যাসাচুসেটসেই বসবাস করেন। তাঁর সুরক্ষা নাকি সরাসরি ‘পিপল্স লিবারেশন আর্মি’র (PLA) দায়িত্বে! যদিও এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
শি মিংজ়ে কে?
শি মিংজ়ে ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা, পেং লিউয়ান, চিনের একজন খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী। শি পরিবার বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আড়ালে রেখেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এক সময় দাবি করেছিল, মিংজ়ে হার্ভার্ডে ইংরেজি সাহিত্য ও মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর পরিচয় জানতেন হাতে গোনা কয়েকজন। আজও তাঁর কোনও নিশ্চিত ছবি বা বিস্তারিত জীবনচিত্র প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনীতির আবহে বিতর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কাকতালীয় নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান দল চায় না, আগামী নির্বাচনের আগে চিন ইস্যুতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক। ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যেই চিনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো সম্প্রতি জানান, ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না’র সঙ্গে সামান্য সম্পর্ক থাকলেও কোনও শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ পাবে না।
হার্ভার্ড বনাম হোয়াইট হাউস
ট্রাম্পের চোখে হার্ভার্ড বহুদিন ধরেই সন্দেহের জায়গা। তাঁর দাবি, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ। এমনকি, সম্প্রতি বিদেশি ছাত্রদের ভর্তি বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যা আদালতের হস্তক্ষেপে স্থগিত হয়। তবুও প্রশাসনের চাপ থেকে মুক্ত নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
শি-কন্যা বিতাড়নের গল্প কি শুধুই কৌশল?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লুমারের পোস্ট এবং মিংজ়ের নাম ব্যবহার একটি রাজনৈতিক চাল হতে পারে, যার লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা দেখিয়ে চিনা শিক্ষার্থীদের বিতাড়নের রাস্তাকে জনসমক্ষে যুক্তিসঙ্গত করে তোলা। কারণ, চিনা নাগরিকদের বড় অংশই কোনও না কোনওভাবে সিপিসির সংস্পর্শে থাকেন—এই যুক্তিই ব্যবহার করে ব্যাপক ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
শেষ কথা, হার্ভার্ডে শি মিংজ়ে এখনো আছেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে আমেরিকার রাজনীতিতে তাঁর নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষা, নিরাপত্তা, এবং কূটনীতি—সবকিছুর ছায়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে এক তরুণীর ব্যক্তিগত জীবন। সময়ই বলবে, এটা শুধুই রাজনৈতিক নাটক, না কি বড় কিছুর সূচনা।
জামাইষষ্ঠীর ভোজেও অম্বল নয়! পুষ্টিবিদের টিপসেই থাকুন হালকা আর হাসিখুশি 💚